বিজ্ঞাপন

কিন্তু পর্যটনে আমাদের আগ্রহ যে হারে বেড়েছে, সেই মাত্রায় এখনো আমরা পর্যটন এটিকেট শিখে উঠতে পারিনি। নইলে যে জায়গাটি দেখার জন্য এত আগ্রহ নিয়ে ছুটে যাচ্ছি, সেই জায়গাকেই কেন আমরা এভাবে নষ্ট করছি? যত্রতত্র চিপসের খোসা, খাবারের প্যাকেট ফেলছি, পানি ও পানীয়ের বোতল ফেলে নোংরা করছি, উচ্চ স্বরে আওয়াজ করে আশপাশের বাসিন্দাদের ত্রস্ত করে তুলছি। মাত্র কয়েক বছরেই হাতিরঝিলকে আমরা কী করে ফেললাম। মানিকগঞ্জের আন্ধারমানিক বাজারের পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া পদ্মাপারেও সেই একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি হচ্ছে।

বছর পাঁচেক হয় এই জায়গার পদ্মার তীরকে বাঁধ দিয়ে শাসন করা হয়েছে। বাঁধ নির্মাণের পর থেকেই জায়গাটিতে ঘুরতে আসা শুরু করে মানুষজন। আর এখন তো এটা মানিকগঞ্জের অন্যতম জনপ্রিয় স্পট। জায়গাটাতে তো আর খালি হাতে যায় না তারা, সঙ্গে নিয়ে যায় চিপস, বিস্কুট, সিগারেট, কোমল পানীয়, মিনারেল ওয়াটার। খাওয়া শেষে সেগুলোর উচ্ছিষ্ট প্যাকেট ও খোসা, খালি বোতল ও ক্যান পদ্মার পারেই ফেলে আসে তারা। বছরের পর বছর ধরে এভাবেই দূষিত হচ্ছে পদ্মার পার।

প্রিয় পদ্মার এই দূষণ সহ্য করতে পারেননি স্থানীয় কিছু তরুণ। ঈদের আগের দিন নিজের গাঁটের পয়সা খরচ করে ১০টি ডাস্টবিন কিনে বাঁশ দিয়ে ঘিরে নদীর তীরে স্থাপন করেছেন তাঁরা। কিন্তু শুধু ডাস্টবিন বসালেই কি হবে? সেখানে ময়লা ফেলার মানসিকতা তো মানুষের থাকতে হবে। ফলে যা হওয়ার তা–ই হয়েছে, ডাস্টবিন বসানোর পরও ঈদের দিন এখানে বেড়াতে এসে হাজার হাজার মানুষ সেই যত্রতত্রই ময়লা ফেলেছে। পরদিন সেগুলো আবার পরিষ্কার করে ডাস্টবিনে ফেলেছেন তাঁরা।

শুধু পদ্মার পার নয়, সারা দেশেরই এই চিত্র। সারা দেশটাই যেন একটা বৃহৎ ডাস্টবিন, চাইলেই যেখানে ইচ্ছা ময়লা ফেলা যায়। এই মানসিকতার পরিবর্তন না হওয়া পর্যন্ত কোনো ডাস্টবিনই আমাদের পরিষ্কার রাখতে পারবে না।

সম্পাদকীয় থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন