এ ছাড়া তৃতীয় শীতলক্ষ্যা সেতুর নিচ দিয়ে বর্তমানে দুটি পিলারের মাঝখান দিয়ে এক লেনে নৌযান চলাচল করছে। সেতুর নিচের এক লেন দিয়ে দুটি লাইটার কার্গো জাহাজ পাশাপাশি অতিক্রম করতে পারে। তৃতীয় কোনো নৌযান চলাচলেই দুর্ঘটনার ঝুঁকি তৈরি হয়। সেতুর নিচে নৌযান চলাচলের আরও দুটি লেন আছে। কিন্তু নাব্যতা-সংকটে সে দুটি এখন বন্ধ আছে।

বিআইডব্লিউটিএর নারায়ণগঞ্জ নদীবন্দর কর্তৃপক্ষ বলছে, নৌ চ্যানেলে প্রতিবন্ধকতা, নৌযানের প্রতিযোগিতা ও নদীতে অবৈধ বার্থিংয়ের কারণে নৌ দুর্ঘটনা ঘটছে। এ ছাড়া তৃতীয় শীতলক্ষ্যা সেতুর নিচ দিয়ে এক লেনে নৌযান চলাচল করায় নদীপথের পুরোটা ব্যবহার করতে পারছে না নৌযানগুলো। ছোট-বড় মিলিয়ে শীতলক্ষ্যায় ১২ ধরনের নৌযান চলাচল করে। বাণিজ্যিকভাবে ‘এ’ শ্রেণিভুক্ত এ নৌপথে প্রতিদিন প্রায় ৬০০ নৌযান চলে, যা ধারণক্ষমতার তুলনায় বেশি। গত ১১ মাসে সেতুর এক কিলোমিটার অংশে লাইটার জাহাজের ধাক্কায় দুটি যাত্রীবাহী লঞ্চ ডুবে মোট ৪৪ জনের প্রাণহানি হয়েছে।

শীতলক্ষ্যা নদীতে দুর্ঘটনা ও প্রাণহানি এড়াতে ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ যাত্রী পরিবহন সংস্থা। আমরাও মনে করি, নৌপথটি নিরাপদ ও গতিশীল রাখতে একটি পরিকল্পিত ও আধুনিক ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা গড়ে তুলতে হবে। শিল্পকারখানার জেটিগুলোতে পণ্য খালাসের পর কার্গো জাহাজগুলো যাতে বড় নদীতে চলে যায়, সে জন্য তদারকি বাড়াতে হবে বিআইডব্লিউটিএ কর্তৃপক্ষকে। তৃতীয় শীতলক্ষ্যা সেতুর নিচের অব্যবহৃত লেন দুটি দ্রুত খনন করে ছোট নৌযানের জন্য সেগুলো উন্মুক্ত করে দিতে হবে।

সম্পাদকীয় থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন