বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

প্রথম আলোর প্রতিবেদন জানাচ্ছে, কারখানার কর্মপরিবেশ ভালো এবং পরিবেশবান্ধব ও নিরাপদ এমন প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য প্রথমবারের মতো এ পুরস্কার চালু করেছে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়। মুজিব বর্ষকে গৌরবোজ্জ্বল ও স্মরণীয় করে রাখতে এ পুরস্কার প্রদানের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রতিবছর তৈরি পোশাক খাত, চা, প্লাস্টিক, চামড়াজাত পণ্য, ওষুধ এবং কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ—এ ছয় খাত থেকে ৩০টি প্রতিষ্ঠানকে পুরস্কার দেওয়া হবে।

শুধু কর্মপরিবেশ নয়, সামগ্রিক পরিবেশ উন্নয়নে এ পুরস্কার দেওয়া হচ্ছে। শ্রম মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা বলছেন, কারখানা নির্মাণে কী ধরনের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার করা হয়েছে, কারখানায় সূর্যের আলো কী পরিমাণ ব্যবহৃত হয়, সৌরবিদ্যুতের ব্যবহার করা হয় কি না—এসব বিষয় দেখা হয়েছে। একটি কারখানায় জীবন ও নিরাপত্তার নিশ্চয়তা কতটা, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা, কক্ষে আলোর ব্যবস্থা, সহনীয় শব্দমাত্রা এবং আরামদায়ক উষ্ণতাও দেখা হয়েছে। কারখানায় বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ করে তা ব্যবহার করা হয় কি না, নিবন্ধিত চিকিৎসক ও নার্স আছে কি না, অগ্নিনির্বাপণব্যবস্থা আছে কি না, তা-ও দেখা হয়েছে।

এ ছাড়া কারখানার মালিক নিয়মিত কর দেন কি না, নিয়মিতভাবে বিভিন্ন উপযোগ সেবার বিল পরিশোধ করেন কি না, দেখা হয়েছে। পাশাপাশি শ্রমিকদের স্বাস্থ্যগত ঝুঁকি নিরূপণ এবং শ্রমিকদের বিনোদন ও তাঁদের সন্তানদের প্রাথমিক শিক্ষা দেওয়া হয় কি না, এসব বিষয়ও দেখা হয়েছে।

একটি কারখানাকে পরিবেশবান্ধব করে তোলার জন্য এসব শর্তপূরণ নিঃসন্দেহে অনেক চ্যালেঞ্জের। পুরস্কারের মাধ্যমে শর্তগুলো পূরণে উৎসাহিত হবেন শিল্পমালিকেরা। এটি শুধু পরিবেশবান্ধব নয়, শ্রম ও শ্রমিকবান্ধব করে তুলবে কারখানাগুলোকে। আমাদের কারখানাগুলোর পরিবেশ নিয়ে বাইরের দুনিয়ায় যে সমালোচনা আছে, তা ঘোচাতেও এটি সহায়তা করবে বলে আমরা আশা করি।

সম্পাদকীয় থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন