বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

প্রথম আলোর প্রতিবেদন জানাচ্ছে, গত বছর জলাশয়টির ১১ একর জমির মালিকানা দাবি করে সেখানে সাইনবোর্ড ঝুলিয়ে দেন জেলা প্রশাসক। এরপর কারাগার কর্তৃপক্ষ সেই জলাশয়ের মালিকানা দাবি করে জেলা জজ আদালতে মামলা করে। জলাশয় নিয়ে জেলা প্রশাসক ও কারাগার কর্তৃপক্ষের এ বিরোধের মধ্যেই ভবন তুলে ফেলা হয়েছে। কারাগারের কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের থাকার জন্য ভবনগুলো করা হয়েছে। কারাগার কর্তৃপক্ষের সরল স্বীকারোক্তি, সরকার যেহেতু উন্নয়নকাজের জন্য অর্থ বরাদ্দ দিয়েছে, তাই স্থাপনা করতে কারও অনুমোদন নেওয়া হয়নি।

জেলা প্রশাসকের বাংলো লাগোয়া জলাশয়টিতে প্রতি শীত মৌসুমে হাজার হাজার পরিযায়ী পাখি আসে। বিভিন্ন ধরনের গাছগাছালি ও প্রাণীর আবাসস্থলও সেটি। সেখানে বহুতল ভবন নির্মাণ অবশ্যই জীববৈচিত্র্যের জন্য হুমকি। এ ছাড়া বর্ষা মৌসুমে নগরীর জলাবদ্ধতা নিরসনেও বড় ভূমিকা রাখে এ জলাশয়। বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের (বাপা) কুমিল্লা জেলা সাধারণ সম্পাদক আলী আকবর বলেন, ‘সরকারি সংস্থা যদি জলাশয় ভরাট করে স্থাপনা করে, তাহলে আমরা কোথায় যাব? অবিলম্বে এ ধরনের পরিবেশবিধ্বংসী কাজ বন্ধ করা হোক।’

জেলা প্রশাসক বলেন, জলাশয় ভরাট করতে হলে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের অনুমোদন লাগে। এ ক্ষেত্রে সেটাও করা হয়নি। তার মানে কারাগার কর্তৃপক্ষ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়কেও তোয়াক্কা করছে না। বিষয়টি খুবই হতাশাজনক। এখন সরকারি সংস্থা যদি এভাবে জলাশয় ভরাট করে স্থাপনা গড়ে তোলে, তাহলে সাধারণ মানুষও পুকুর ভরাট করে ভবন নির্মাণে উৎসাহিত হবে। কুমিল্লার পুকুর ও জলাশয়গুলো বাঁচাতে কালিয়াজুরি এলাকার জলাশয়টি দখলমুক্ত করার বিকল্প নেই। প্রয়োজনে কারাগার ভবনের জন্য পৃথক জমির ব্যবস্থা করা হোক। জলাশয়টি উদ্ধারে সরকারের উচ্চপর্যায়ের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।

সম্পাদকীয় থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন