বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

প্রথম আলোর প্রতিবেদন জানাচ্ছে, সালমান ফারসি অত্যন্ত সংবেদনশীল ও পরোপকারী তরুণ। যে কারও আপদে-বিপদে তিনি প্রথমে এগিয়ে যেতেন। প্রায় তিন বছর আগে ঢাকার এফডিসিতে কর্মরত ছিলেন। ওই সময় তিনি বিভিন্ন চলচ্চিত্রে ছোটখাটো চরিত্রে অভিনয়ও করেছেন। এরপর বাড়িতে ফিরে গিয়ে স্থানীয় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে খণ্ডকালীন কাজ করতেন তিনি। ঘটনার দিন সালমান ফারসি তাঁর বাড়ির কাছের রেললাইনের একটি সেতুর নির্মাণকাজের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের পাহারায় ছিলেন।

নীলফামারী সদরের রিকশাচালক রেজওয়ান আলী ও স্থানীয় একটি কারখানার শ্রমিক মজিদা বেগমের সাত বছর, পাঁচ বছর ও দুই বছর বয়সী তিন শিশু বুধবার সকালে রেললাইনের ওপর খেলছিল। ঘন কুয়াশার কারণে বেশি দূর পর্যন্ত দেখা যাচ্ছিল না। একটা ইটবাহী ট্রলির শব্দের কারণে ট্রেনের শব্দও বোঝা যায়নি। হঠাৎ করেই ট্রেন আসতে দেখে সেতু সংস্কারকাজের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের পাহারাদার সালমান ফারসি জীবনের ঝুঁকি জেনেও বাচ্চাদের রক্ষা করতে যান। একটি শিশুকে কোলে নিয়ে রেললাইন থেকে লাফ দেওয়ার আগেই ট্রেনের ধাক্কায় ছিটকে
পড়েন। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তিকে হারিয়ে তাঁর স্ত্রী সুমি আক্তার, সাড়ে চার বছরের মেয়ে মিত্তাহুল জান্নাত ও মা চিনু বেওয়া অসহায় হয়ে পড়েছেন।

স্থানীয় সাংসদ আসাদুজ্জামান নূর স্বজনদের সান্ত্বনা দিতে গিয়ে বলেছেন, ‘সালমান ফারসি ওই তিনটা বাচ্চাকে বাঁচাতে গিয়ে প্রাণ হারালেন। তাঁরও তো বউ-বাচ্চা আছে। আমি যতবারই কল্পনা করি, ততবারই আমার চোখের পানি আটকাতে পারি না। তাঁকে কীভাবে শ্রদ্ধা জানাব, আমি ঠিক বুঝতে পারছি না।’

আমাদের সমাজে ব্যক্তিস্বার্থ যখন সব ক্ষেত্রেই প্রাধান্য বিস্তার করেছে, সে সময় সালমান ফারসির মতো সংবেদনশীল ও পরোপকারী যুবকের এ রকম মৃত্যু মোটেই কাম্য নয়। শিশুদের প্রতি অভিভাবক ও প্রতিবেশীরা যত্নশীল ও সচেতন হলে, এমন অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা রোধ করা সম্ভব। সাহসী যুবক সালমান ফারসির আত্মত্যাগের প্রতি আমরা শ্রদ্ধা জানাই। তাঁর স্ত্রী, সন্তান ও মায়ের পাশে দাঁড়ানোর দায়বদ্ধতা যেমন রাষ্ট্রের, তেমন সমাজের সামর্থ্যবান সবার।

সম্পাদকীয় থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন