শুধু জাফলং নয়, দেশের প্রাকৃতিক নিদর্শনগুলোতে এভাবে প্রবেশমূল্য বসাচ্ছে প্রশাসন, তুলে দেওয়া হচ্ছে ইজারাদারদের হাতে। পর্যটনকেন্দ্রের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও রক্ষণাবেক্ষণের যুক্তিতে এমনটা করা হলেও কোনো অর্থেই সেগুলো পর্যটনবান্ধব হয়ে ওঠে না। স্থানীয় প্রভাবশালী, রাজনৈতিক নেতা, দলীয় মাস্তানদের ঘিরে সেখানে একটি চক্র গড়ে ওঠে। নামমাত্র মূল্যে ইজারা দিয়ে চক্রটিকে কোটি কোটি টাকার ব্যবসার সুযোগ করে দেয় প্রশাসন।

জাফলংয়ের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করতে কেন সাধারণ মানুষকে টিকিট কাটতে হবে, সেটি আমাদের বোধগম্য নয়। জেলা প্রশাসন কোন যুক্তিতে মানুষকে ঘোরাঘুরিতে এমন প্রতিবন্ধকতা তৈরি করল। অথচ ২০১৯ সালে হাইকোর্টের এক রায়ে স্পষ্ট উল্লেখ করা হয়েছে যে প্রাকৃতিক সম্পদ, উন্মুক্ত জলাভূমি, সমুদ্র, নদ–নদী, খাল-বিল, হাওর-বাঁওড়, ঝিল, সমুদ্রসৈকত, নদীর পাড়, পাহাড়-পর্বত, টিলা, বন, বাতাস—সবকিছু হলো পাবলিক ট্রাস্ট সম্পত্তি, এগুলোর কোনো একটির অধিকার থেকে নাগরিকদের বঞ্চিত করা সংবিধান পরিপন্থী।

সেই রায়ে এ–ও বলা হয় যে এই পাবলিক ট্রাস্ট সম্পত্তির কোনো একটিকেও বেসরকারি মালিকানায় প্রদান করা বা বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করার কোনো অধিকার সরকারের নেই। সিলেট জেলা প্রশাসনের তো আদালতের এ নির্দেশনা না জানার কথা নয়। তাদের আচরণ কি আদালতের নির্দেশনার স্পষ্ট লঙ্ঘন নয়?

এটি বলতেই হবে যে দেশীয় পর্যটকদের বড় একটি অংশ যথেষ্ট পর্যটনবান্ধব হতে পারেনি। কিন্তু এর জন্য সরকারের পর্যটন কর্তৃপক্ষ ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষগুলো কি মোটাদাগে দায়ী নয়? উন্নয়নের নামে প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের হানি করা ছাড়া পর্যটকদের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধির কোনো উদ্যোগ নিতে দেখা যায় না তাদের। কর্তৃপক্ষের এমন উদাসীনতা ও গুরুত্বহীনতার কারণে পর্যটনকেন্দ্রগুলোতে মাস্তানতন্ত্র চেপে বসেছে। পর্যটনকেন্দ্রগুলোতে মাস্তানতন্ত্র ও প্রশাসন কর্তৃক প্রতিবন্ধকতা থাকুক আমরা চাই না। দেশের পর্যটন খাতের দৈন্যদশার কারণে বিদেশি পর্যটককে তো আমরা আকৃষ্টই করতে পারছি না, বরং দেশীয় পর্যটকেরাই বিদেশমুখী হচ্ছেন। সরকার কখন দেশের পর্যটন খাতের টেকসই উন্নয়নের দিকে নজর দেবে?

সম্পাদকীয় থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন