এ অবস্থায় হাওর এলাকায় আকস্মিক অকালবন্যার পদধ্বনি শোনা যাচ্ছে। বন্যার পানি প্রথম আঘাত হানে সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলায়। এ কারণে সেখানকার বাঁধগুলো ঝুঁকিতে আছে। কয়েকটি স্থানে বাঁধে ফাটল ধরেছে। টাঙ্গুয়া এলাকায় বোরোর আবাদ কম। ফলে সেখানে পানি উঠলেও ক্ষতি কম। কিন্তু অন্যান্য এলাকার বাঁধগুলো দ্রুত মেরামত করা না হলে ক্ষতির পরিমাণ অনেক বেড়ে যাবে। বিশেষজ্ঞদের মতে, হাওর এলাকায় যে সাড়ে তিন হাজার কোটি টাকার ধান উৎপন্ন হয়, তার সিংহভাগই ঝুঁকিতে আছে। এ ঝুঁকি কমানোর উপায় হলো বন্যা আসার আগেই পাকা ধান কেটে ফেলা। কৃষি বিভাগ বলেছে, যেসব খেতের ধান ৮০ শতাংশ পেকেছে, কৃষকেরা যেন তা কেটে ফেলেন। কেননা হঠাৎ পানি বেড়ে গেলে ধান কাটা যাবে না। যেসব খেতের ধান এখনো পাকেনি, সেগুলা রক্ষা করতে হলে বাঁধের ফাটলগুলো দ্রুত মেরামত করতে হবে। আশা করব, পানি উন্নয়ন বোর্ড বাঁধগুলো জরুরি ভিত্তিতে মেরামত করবে। অনেক সময় লোকবলের স্বল্পতার দোহাই দেওয়া হয়। এ সময় যেসব এলাকায় বন্যার আশঙ্কা নেই, সেখান থেকে তারা লোকবল সরিয়ে এনে হাওর এলাকায় নিয়োগ করতে পারে। জাতীয় দুর্যোগ মোকাবিলায় বাংলাদেশের মানুষ সব সময়ই উদ্যোগী ভূমিকা নিয়ে থাকে। এমনকি সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো যখন নিষ্ক্রিয় থাকে, তখনো তারা সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেয়। ঘূর্ণিঝড় আম্পানের সময়ও তারা নিজ উদ্যোগে বাঁধ মেরামত করেছে। পানি উন্নয়ন বোর্ড এ কাজে মানুষের সহায়তা নিতে পারে।

প্রতিবছরই বন্যা, ঘূর্ণিঝড় হয়। আমরা হয়তো এসব প্রাকৃতিক দুর্যোগ ঠেকাতে পারব না। কিন্তু আগেভাগে ব্যবস্থা নিলে ক্ষতিটা পুষিয়ে নেওয়া যায়। যেখানে অভিন্ন নদী আছে, সেখানে বাংলাদেশের পক্ষে এককভাবে বন্যা নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন। সে ক্ষেত্রে যৌথ নদী ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে আমরা একে অপরকে সহযোগিতা করতে পারি। আমাদের অনেক নদী নাব্যতা হারিয়েছে। ফলে শুকনো মৌসুমে যেমন সেগুলো শুকিয়ে খরখরা, তেমনি বর্ষা মৌসুমে নদীগুলো পানি ধারণ করতে পারে না বলে অল্প বৃষ্টিতেই বন্যা হয়। তাই এর স্থায়ী প্রতিকার হিসেবে নদীর নাব্যতাও নিশ্চিত করা প্রয়োজন। পানি উন্নয়ন বোর্ড এ খাতে কোটি কোটি টাকা খরচ করলেও দৃশ্যমান অগ্রগতি নেই।

দেরিতে হলেও পানি উন্নয়ন বোর্ডের ঘুম ভাঙুক।

সম্পাদকীয় থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন