বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

প্রথম আলোর প্রতিবেদন জানাচ্ছে, ঋষিবাড়ি এলাকায় এক দশক আগে নির্মিত লোহার সেতুটি প্রায় চার বছর আগে বালুবাহী ড্রেজারের ধাক্কায় ভেঙে পড়ে। এরপর থেকে স্থানীয় তিন গ্রামের মানুষ নদী পারাপারে খেয়া ব্যবহার করে আসছে। স্কুল-কলেজের সময় খেয়ায় চাপ তৈরি হয়। অনেক সময় অতিরিক্ত যাত্রী থাকায় দুর্ঘটনার ঝুঁকিও তৈরি হয়। তিন মাস আগে সেখানে নতুন গার্ডার সেতু নির্মাণের কার্যাদেশ দেওয়া হয়। কিন্তু এখনো কাজ শুরু হয়নি। ফলে এলাকাবাসীর দুর্ভোগ দূর হচ্ছে না।

এলজিইডি গত ২৩ জুন পাঁচ কোটি টাকা ব্যয়ে গার্ডার সেতু নির্মাণের জন্য চট্টগ্রামের প্রতিষ্ঠান মেসার্স ইউনুস অ্যান্ড ব্রাদার্সকে কার্যাদেশ দেয়। এক বছরের মধ্যে কাজ শেষ করতে হবে। এর মধ্যে তিন মাস পার হয়ে গেলেও নির্মাণকাজ শুরুর কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। ঠিকাদারকে দ্রুত কাজ শুরু করার জন্য চিঠিও দিয়েছে এলজিইডি। তবে প্রথম আলোর প্রতিনিধি ফোনে জানালেন, অনেক সময় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানগুলো কাজ নিয়ে আরেক ঠিকাদারের কাছে বিক্রি করে। সে কারণে কাজ শুরু করতে দেরি হয়। এখানেও তেমনটি হতে পারে।

টেন্ডারে কাজ পাওয়ার পর অন্য প্রতিষ্ঠানের কাছে প্রকল্প সাব-কন্ট্রাক্টে দেওয়া কিংবা লাইসেন্স ভাড়া দেওয়া, কাজ বিক্রি করে দেওয়া ইত্যাদি অনিয়ম করে থাকেন ঠিকাদারেরা। ফলে প্রকল্পগুলো নির্ধারিত সময়ে শেষ করা সম্ভব হয় না। এরপরও রাজনীতি ও অর্থক্ষমতার বলে বারবার টেন্ডার বাগিয়ে নেয় ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানগুলো। অভিযোগ আছে, এমন একটি প্রতিষ্ঠান হচ্ছে মেসার্স ইউনুস অ্যান্ড ব্রাদার্স। এর আগে বান্দরবানে সড়ক ছাড়াই পাহাড় ঘেঁষে সেতু নির্মাণের সঙ্গে প্রতিষ্ঠানটির নাম উঠে আসে। সেখানেও আরেক ঠিকাদারকে কাজটি বিক্রি করে দেওয়ার অভিযোগ পাওয়া যায়। ফলে পিরোজপুরে সেতুটির নির্মাণ নিয়ে শঙ্কা দেখা যাচ্ছে। এলজিইডি ও স্থানীয় প্রশাসনের প্রতি আহ্বান, সেতুর নির্মাণকাজ শুরু করতে দ্রুত ব্যবস্থা নিন। ভুক্তভোগী মানুষকে রেহাই দিন।

সম্পাদকীয় থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন