বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

প্রথম আলোর প্রতিবেদন জানাচ্ছে, মোট ২৬ লাখ ৬৪ হাজার টাকা ব্যয়ে এ প্রকল্প বাস্তবায়নে ছিল রাজশাহী বিভাগীয় মৎস্য সম্পদ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ। ২০১৭-১৮ অর্থবছরে বাস্তবায়নের কথা থাকলেও শেষ হয় চলতি বছরের এপ্রিলে। চারটি পুকুরের প্রতিটি খননে বরাদ্দ ছিল ৫ লাখ ১৬ হাজার টাকা। প্রকল্পের প্রধান উদ্দেশ্য উন্মুক্ত বিল জলাশয়ে প্রাকৃতিক উপায়ে পোনা উৎপাদন এবং বিলের পানিতে তা ছড়িয়ে দেওয়া। কিন্তু পুকুর খননের প্রায় ১২ লাখ টাকাই আত্মসাৎ করা হয়েছে।

পুকুর খননের জন্য নিয়মানুযায়ী চারটি দল গঠন করা হলেও প্রকল্পের উপদেষ্টা ইউপি চেয়ারম্যান এরশাদুল হক নিজেই সেই কাজ বাগিয়ে নিয়েছেন। চার দলের প্রধানদের হাতে কয়েক হাজার টাকা দিয়ে একজন মাত্র ব্যক্তিকে দিয়ে কাজ করে নিয়েছেন। ওই ব্যক্তির পাওনার প্রায় সাড়ে তিন লাখ টাকাও তিনি পরিশোধ করেননি। অন্যদিকে মৎস্য কর্মকর্তা সুজয় পাল বলছেন, দলের প্রধানদের প্রত্যেকের হাতে তিনি ৫ লাখ ১৬ হাজার করে টাকা দিয়েছেন। এমন হযবরল পরিস্থিতিতে বিল এলাকার সমবায় সমিতি বলছে, পোনা ছাড়ার প্রায় ছয় লাখ টাকাও গায়েব করে দিয়েছেন সুজয়। এমন অভিযোগের পর তাঁর বক্তব্য হচ্ছে ওই টাকা তাঁর কাছে আছে, পরে খরচ করা হবে। আর প্রকল্পে কোনো অস্বচ্ছতা হয়নি।

এলাকাবাসীর দাবি, ভুয়া একটা প্রকল্প এনে সরকারি টাকা হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে। কারণ, বিলের মাঝে পুকুর খনন করে মাছের পোনা উৎপাদনের বাস্তবতাই এখানে নেই। পোনা ছাড়ার সময় বৃষ্টির কারণে পুকুর আর বিলের পানি সমান হয়ে যায়। ফলে পোনা হওয়ার আগেই সেগুলো বিলে ছড়িয়ে পড়বে। এমন পরিস্থিতিতে বিলে নয়, কোনো উঁচু জমিতে পুকুর খনন করেই পোনা উৎপাদন করতে হবে। ফলে সম্ভাব্যতা যাচাই করা ছাড়া এসব প্রকল্প বন্ধ হোক। এর সঙ্গে জড়িত ও অর্থ আত্মসাৎকারীদের শাস্তির আওতায় আনা হোক।

সম্পাদকীয় থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন