বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

প্রথম আলোর প্রতিবেদন জানাচ্ছে, রাজশাহী সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগ এ সড়ক নির্মাণ করছে। তারা বলছে, সড়ক ও জমি জেলা পরিষদের। শুধু রাস্তাটি সওজকে হস্তান্তর করা হয়েছে। ফলে জমি অধিগ্রহণ করতে না পেরে তারা বাঁক রেখেই রাস্তার কাজ শেষ করছে। পরে অন্য প্রকল্প নিয়ে সড়ক সোজা করা হবে। চারঘাট-বাঘা-নাটোরের লালপুর হয়ে সড়কটির দৈর্ঘ্য ৫৪ কিলোমিটার। ১৮ ফুট চওড়া থেকে ৩৪ ফুট করা হচ্ছে সেটিকে। কিন্তু এ সড়কের শুধু চারঘাট ও বাঘা উপজেলার মধ্যেই থাকছে ১৪টি ঝুঁকিপূর্ণ বাঁক।

স্থানীয় লোকজন বলছেন, উত্তর ও দক্ষিণাঞ্চলের দ্রুত যানগুলো নতুন সড়কে চলাচল করবে। প্রত্যাশা ছিল, মহাসড়ক হওয়ার সময় বাঁকগুলো যতটা সম্ভব সোজা করে দেওয়া হবে। এতে দুর্ঘটনার শঙ্কাও কমে যাবে। কিন্তু বাস্তবে তা করা হচ্ছে না। কোনো কোনো মোড়ে আগ থেকেই দুর্ঘটনার পরিমাণ বেশি। এখন দূরপাল্লার গাড়ি চলবে। রাস্তাও হচ্ছে আরও বাঁকা। মানুষ মরলে তারপর কর্তৃপক্ষ নতুন প্রকল্প হাতে নেবে, এটা বেদনাদায়ক। কোনো জায়গায় এমনও দেখা যাচ্ছে, রাস্তা নির্মাণের আগে ‘এল’ আকারের অর্থাৎ ৯০ ডিগ্রি কোণের মতো বাঁকা করে নির্মাণ করা হয়েছে। বাঁক এড়ানোর জন্য সরকারি খাসজমি ব্যবহারের সুযোগও ছিল কোথাও, সেটিই আমলে নেওয়া হয়নি।

সওজের কর্মকর্তারা বলেছেন, বাঁকের ব্যাপারটি সম্পর্কে তাঁরা অবগত আছেন। দুর্ঘটনা রোধে সব ধরনের পদক্ষেপ নেবেন তাঁরা। পরে জমি অধিগ্রহণ করে বাঁক সরলীকরণের প্রকল্প হাতে নেওয়া যাবে। কিন্তু জেলা পরিষদের সঙ্গে সমন্বয় করে এক প্রকল্পে নিরাপদভাবে সড়কটি করা কি কঠিন কিছু ছিল? কেন আরেকটি প্রকল্প এনে সরকারি অর্থ অপচয় করতে হবে? এখন সড়কের নামে যে মরণফাঁদ বানাচ্ছেন তাঁরা, সেখানে কোনো প্রাণহানি ঘটলে তার দায়ভার কে নেবে?

সম্পাদকীয় থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন