বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

অস্বীকার করার উপায় নেই যে পূর্বাপর সরকারগুলো সম্ভাব্যতা যাচাই না করে কেবল রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে নতুন নতুন পৌরসভা প্রতিষ্ঠা করেছে। একটি পৌরসভার ন্যূনতম যে শর্ত পূরণ করার কথা, প্রতি কিলোমিটারে যে জনসংখ্যা থাকার কথা, যে আয়ের উৎস থাকার কথা, অধিকাংশ পৌরসভায় তা নেই। আবার পৌরসভা প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর যথেচ্ছভাবে কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়োগ দিয়ে থাকেন মেয়র-কাউন্সিলররা। পৌরসভা থেকে তাঁদের বেতন-ভাতা দেওয়া যাবে কি না, তা-ও বিবেচনায় নেওয়া হয়নি। ফলে দিনে দিনে বেড়েছে দেনা। প্রথম আলোর খবর অনুযায়ী, ৮৫ শতাংশ পৌরসভার কর্মকর্তাদের বেতন-ভাতা বাকি পড়েছে ২ থেকে ৬৫ মাস পর্যন্ত। যেসব পৌরসভা কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা দিতে অপারগ, তারা কীভাবে পৌরবাসীর সেবা করবে?

সে ক্ষেত্রে আইনের সংশোধনীতে যে ১২ মাসের বেশি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা বকেয়া থাকলে পৌরসভা বাতিল করার যে প্রস্তাব করা হয়েছে, তা অযৌক্তিক নয়। এতে অন্তত সংশ্লিষ্ট পৌরসভা নিজেদের আয় বাড়ানোর চেষ্টা করবে। সেই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট পৌরসভাগুলো যাতে আর্থিকভাবে সচ্ছল হতে পারে, সে বিষয়ে সরকারের পরিকল্পনা থাকতে হবে। স্থানীয় সরকার সংস্থাগুলোর ক্ষমতা বাড়াতে হবে।

তবে পৌরসভার নির্বাচিত প্রতিনিধির মেয়াদ শেষে অনির্বাচিত প্রশাসক নিয়োগের প্রস্তাব জনপ্রতিনিধিরা সহজভাবে নেননি। বাংলাদেশ মিউনিসিপ্যাল সার্ভিসেস অ্যাসোসিয়েশন আনুষ্ঠানিক প্রতিবাদ জানিয়েছে। তাদের ভয়, এর মাধ্যমে পৌরসভাকেও আমলানির্ভর প্রতিষ্ঠানে পরিণত করা হবে। সংশোধনীর পক্ষের যুক্তিটিও অগ্রাহ্য করা যাবে না। অনেক পৌরসভার মেয়র মেয়াদ শেষ হওয়ার পর আদালতে মামলা ঠুকে বছরের পর বছর নির্বাচন ঠেকিয়ে রেখে স্বপদে বহাল থাকেন। এ ধারা বন্ধ হওয়া প্রয়োজন। নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি থাকার অর্থ এই নয় যে তিনি অনন্তকাল এ পদে বহাল থাকবেন।

আইন অনুযায়ী, স্থানীয় সরকার সংস্থাগুলো নির্বাচিত প্রতিনিধি দ্বারাই পরিচালিত হতে হবে। সে ক্ষেত্রে মেয়াদ শেষ হওয়ার ৯০ দিনের মধ্যে নির্বাচন করলে আর প্রশাসক নিয়োগের প্রশ্ন আসবে না। পৌরসভার মেয়র না থাকলে প্যানেল মেয়রও রুটিন কাজ চালিয়ে যেতে পারবেন। তারপরও যদি অনিবার্য কারণে প্রশাসক নিয়োগের প্রয়োজন পড়ে, তার মেয়াদ কোনো অবস্থায় বাড়ানো যাবে না এবং তিনি রুটিন দায়িত্ব পালন করবেন। সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার বলেছেন, কোনো কারণে প্রশাসক নিয়োগ করতে হলেও যেন আমলাদের ক্ষমতায়িত করা না হয়। পৌরসভা কিংবা উপজেলা পরিষদে নির্বাচিত প্রতিষ্ঠানের যে চরিত্র, তা কোনোভাবে ক্ষুণ্ন করা যাবে না।

সংবিধানে স্থানীয় সরকারকে শক্তিশালী করার কথা বলা আছে। কিন্তু দেশে বহু স্তরে স্থানীয় সরকারকাঠামো থাকলেও স্থানীয় সরকার সংস্থাগুলোর নির্বাচিত প্রতিনিধিদের ওপর অনির্বাচিত আমলারাই ছড়ি ঘোরাচ্ছেন, যা কেবল দুর্ভাগ্যজনক নয়, আইন ও সংবিধানেরও পরিপন্থী।

সম্পাদকীয় থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন