বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

স্বাধীনতার ৫০ বছর পর বিচার বিভাগের এই চিত্র খুবই হতাশাজনক। বিচার বিভাগ সরকারকে উল্লেখযোগ্য হারে রাজস্ব দিলেও সেখানে বরাদ্দের পরিমাণ কম। সরকারের উচিত হবে প্রধান বিচারপতির পরামর্শগুলো আমলে নিয়ে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া। কেবল বিচারকের সংখ্যা বাড়ালে হবে না; তাঁদের অবকাঠামোগত সুবিধাও বাড়াতে হবে; তাঁদের আবাসনের ব্যবস্থা করতে হবে; দিতে হবে সহায়ক লোকবলও। সরকার বিচারপতি নিয়োগে আইন করার উদ্যোগ নিয়েছে এ তথ্য জানিয়ে প্রধান বিচারপতি সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। কথা হলো এ উদ্যোগ কবে নাগাদ যৌক্তিক পরিণতি পাবে। অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায়, নির্বাহী বিভাগ তার প্রয়োজনে ত্বরিত আইন প্রণয়ন করে থাকে। আবার সংবিধানের নির্দেশনা সত্ত্বেও অনেক আইন বকেয়া রয়ে গেছে। উদাহরণ হিসেবে নির্বাচন কমিশন আইনের কথা উল্লেখ করা যায়।

সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবীদের কাছ থেকে যেসব তথ্য পাওয়া গেছে, তাতে দেখা যায়, বর্তমান প্রধান বিচারপতির আমলে বিচার বিভাগে বেশ কিছু ইতিবাচক কাজ হয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে কোম্পানি ও অ্যাডমিরালিটি মামলার ই-ফাইলিং। এ ছাড়া গত দুই বছর করোনার কারণে ভার্চ্যুয়াল আদালতও বেশ সক্রিয় ছিল। ফলে বিচারপ্রার্থীদের ভোগান্তি কিছুটা হলেও কমেছে। করোনার সংক্রমণ কমে আসায় ফের শারীরিক উপস্থিতিতে আদালত বসছে। এ জন্য বিদায়ী প্রধান বিচারপতি প্রশংসা পেতে পারেন।

সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতি দ্বারা প্রধান বিচারপতিকে স্বাগত কিংবা বিদায় সংবর্ধনা জানানো আদালত অঙ্গনের একটি বহু পুরোনো রীতি। কিন্তু আমরা গভীর উদ্বেগের সঙ্গে লক্ষ করলাম, গত বুধবার প্রধান বিচারপতি মাহমুদ হোসেনের বিদায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সম্পাদকের নেতৃত্বে আইনজীবীদের একাংশ অনুপস্থিত ছিলেন; যঁারা বিএনপিপন্থী হিসেবে পরিচিত। সম্পাদক সংবাদ সম্মেলন করে তাঁরা সময়মতো আমন্ত্রণ না জানানোর যে অজুহাত খাড়া করেছেন, তা কোনোভাবে গ্রহণযোগ্য নয়। আইনজীবীদের মধ্যে রাজনৈতিক পথ ও মতের ভিন্নতা থাকতে পারে; কিন্তু তা কোনোভাবে আদালত অঙ্গনে আনা সমীচীন নয়।

সম্পাদকীয় থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন