বিজ্ঞাপন

সে ক্ষেত্রে প্রবাসীদের টিকা প্রদানের কাজটি দ্রুত সম্পন্ন করতে এই তিন সংস্থা ও মন্ত্রণালয়ের মধ্যে সমন্বয় থাকা জরুরি। প্রথম আলোর খবর থেকে জানা যায়, তিন সংস্থার মধ্যে কাজে সমন্বয়ের প্রচণ্ড ঘাটতি আছে। যেমন স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ফাইজারের টিকার জন্য নিবন্ধনের কাজ শুরু করেছে। যদিও প্রবাসীদের জন্য ঢাকার বাইরের কোনো হাসপাতালে নিবন্ধন করা হচ্ছে না। পরিস্থিতি এতটাই শোচনীয় যে প্রবাসীরা বুধবার সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে বিক্ষোভও করেছেন।

প্রবাসীদের অভিযোগ, বিএমইটি নিবন্ধন নিশ্চিত করতে বেশি সময় নিয়েছে। আবার টিকা প্ল্যাটফর্ম সুরক্ষায় নিবন্ধন করার পর তাঁদের এক সপ্তাহ কিংবা তার চেয়ে বেশি সময় অপেক্ষা করতে হয়। যেখানে অন্য নাগরিকেরা দু-তিন দিনের মধ্যে টিকা দেওয়ার সময়সূচি পেয়ে যান, প্রবাসীদের ক্ষেত্রে এ বিলম্ব কেন? এর জন্য যাঁরা দায়ী, তঁাদের চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।

যেই প্রবাসী শ্রমিকেরা শ্রম-ঘাম ঝরিয়ে দেশের অর্থনীতিকে টিকিয়ে রাখছেন, বৈদেশিক মুদ্রার ভান্ডার স্ফীত করছেন, তাঁরা কেন পদে পদে হয়রানির শিকার হবেন।

৫ জুলাই টিকার জন্য প্রবাসীদের নিবন্ধন শুরু হওয়ার পর থেকে প্রতিদিন হাজার হাজার প্রবাসী শ্রমিক বিভিন্ন হাসপাতালে ভিড় জমাচ্ছেন। কোনো কোনো হাসপাতালে তাঁরা বিক্ষোভও করেছেন। এ অবস্থা সৃষ্টি হওয়ার আগেই সংশ্লিষ্টদের সজাগ হওয়া উচিত ছিল। স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেছিলেন, করোনার সংক্রমণ রোধ করা তাঁদের কাজ নয়। তাহলে করোনার প্রতিষেধক দেওয়ার যে দায়িত্ব তাঁর মন্ত্রণালয়াধীন স্বাস্থ্য অধিদপ্তর নিয়েছে, তা-ও তাঁরা ঠিকমতো পালন করছেন না। এ ব্যর্থতার জবাব কী।

মঙ্গলবার বাংলাদেশ সিভিল সোসাইটি ফর মাইগ্র্যান্টস (বিসিএসএম) আয়োজিত অনলাইন সংবাদ সম্মেলনে ১২ দফা সুপারিশ করা হয়েছে, যার মধ্যে আছে বেশি দাম দিয়ে হলেও প্রবাসীদের জন্য দ্রুত টিকা আনা, ৭২ ঘণ্টার মধ্যে নিবন্ধনের ফল জানানো, নিবন্ধনের ক্ষেত্রে বিএমইটিকে আরও সতর্ক হওয়া, সার্ভারের সক্ষমতা বাড়ানো এবং যাঁদের স্মার্ট কার্ড আছে, তাঁদের কাছ থেকে কোনো ফি না নেওয়া। এ ছাড়া নিবন্ধনের প্রক্রিয়াটি ভিডিও টিউটোরিয়ালের মাধ্যমে ব্যাপক প্রচার করা।

যেই প্রবাসী শ্রমিকেরা শ্রম-ঘাম ঝরিয়ে দেশের অর্থনীতিকে টিকিয়ে রাখছেন, বৈদেশিক মুদ্রার ভান্ডার স্ফীত করছেন, তাঁরা কেন পদে পদে হয়রানির শিকার হবেন। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও দপ্তরের মধ্যকার সমন্বয়হীনতা অবিলম্বে দূর করতে হবে। প্রবাসীরা দেশের যেকোনো স্থান থেকে যাতে টিকা পেতে পারেন, সেই ব্যবস্থা করতে হবে। এ বিষয়ে কোনোরকম গাফিলতি চলতে দেওয়া যায় না। কারিগরি ত্রুটির দোহাই দিয়ে প্রবাসী শ্রমিকদের বিপদে ফেলা যাবে না। অতীতে বিমানের টিকিট ও ভিসা নিয়েও তাঁরা ভোগান্তির শিকার হয়েছেন। এর পুনরাবৃত্তি কোনোভাবেই কাম্য নয়।

সম্পাদকীয় থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন