প্রথম আলোর প্রতিবেদন জানাচ্ছে, কালীগঞ্জ পৌরসভার আর আর এন পাইলট সরকারি উচ্চবিদ্যালয় মাঠে মেলাটি পরিচালনা করছে বাংলাদেশ তাঁত শিল্প শিক্ষা ফাউন্ডেশন, আর আয়োজনে আছে গাজীপুর জেলা পুলিশ নারী কল্যাণ সমিতি (পুনাক)। মাঠের সীমানার চারপাশে স্থাপন করা হয়েছে স্টল, টাওয়ার, পানির ফোয়ারাসহ নানা স্থাপনা। অথচ আইন অনুযায়ী খেলার মাঠে খেলা ছাড়া অন্য কোনোভাবে ব্যবহার, ভাড়া বা ইজারা দেওয়া অপরাধ। প্রাকৃতিক জলাধার সংরক্ষণ আইন অনুযায়ী, খেলার মাঠের শ্রেণি পরিবর্তন করা যাবে না। অন্যথায় অনধিক পাঁচ বছরের কারাদণ্ড কিংবা অনধিক ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড অথবা উভয় সাজার বিধান রয়েছে। প্রশাসন কি এ আইন জানে না, নাকি না জানার ভান করছে!

গাজীপুর পুনাকের সাংগঠনিক সম্পাদক ও জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার নন্দিতা মালাকারের দাবি, বিষয়টি নিয়ে তিনি পুরোপুরি ওয়াকিবহাল নন। আবার কালীগঞ্জ থানা বলছে, তারাও কিছু জানে না। ইউএনও বলছেন, উপজেলা প্রশাসন থেকেও কাউকে অনুমতি দেওয়া হয়নি। আবার জেলা প্রশাসক জানালেন, মেলার ব্যাপারে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের সম্মতি আছে। তিনি হয়তো চাপে পড়ে অস্বীকার করেছেন। এ ছাড়া পুলিশের প্রতিবেদন ও পারিপার্শ্বিক বিষয় বিবেচনা করে অনুমতি দেওয়া হয়েছে।

মাঠটিতে নিয়মিত খেলতে আসে পৌরসভার বিভিন্ন এলাকার শিশু-কিশোর ও স্কুলের শিক্ষার্থীরা। মেলা উঠে গেলেও মাঠটি কতটা ব্যবহার উপযোগী থাকবে, তা নিয়েও সংশয় আছে তাদের মধ্যে। স্থানীয় পরিবেশকর্মীরা বলছেন, কিছু অসাধু চক্র প্রতিনিয়তই টাকা আয়ের উৎস হিসেবে মাঠগুলো ব্যবহার করছে। তাদের মদদ দিচ্ছেন প্রশাসনের লোকজন। পর্যাপ্ত খেলাধুলা ও সুষ্ঠু বিনোদনের অভাবে এলাকায় এলাকায় গড়ে উঠছে কিশোর গ্যাং। এ নিয়ে পুলিশসহ স্থানীয় প্রশাসনের উদ্বেগ আমরা দেখতে পাই। কিন্তু তারাই যদি খেলার মাঠ দখলে প্রত্যক্ষ-পরোক্ষভাবে মদদ দেয়, তাতে বিষয়টি কী দাঁড়াল!

আমরা কালীগঞ্জ আর আর এন পাইলট সরকারি উচ্চবিদ্যালয় মাঠে মেলা আয়োজনের ঘটনার নিন্দা জানাই। খেলার মাঠটি খেলার জন্যই দ্রুত উন্মুক্ত করে দেওয়া হোক।

সম্পাদকীয় থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন