default-image

২০ জানুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের ৪৬তম প্রেসিডেন্ট হিসেবে জো বাইডেনের অভিষেকের মধ্য দিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও বিশ্ব এক নতুন আশাবাদী অধ্যায়ে প্রবেশ করল। ডোনাল্ড ট্রাম্পের শাসনাবসানের মুহূর্তে আশা এই যে তাঁর সংকীর্ণ, বিভেদাত্মক, জনতুষ্টিবাদী রাজনীতির দৌরাত্ম্য লাঘব হবে; যুক্তরাষ্ট্র আবার উদার, গণতান্ত্রিক, বহুত্ববাদী ভাবাদর্শের পথে নতুন করে যাত্রা শুরু করবে। ট্রাম্প প্রশাসন বৈশ্বিক সমাজের সঙ্গে আমেরিকার যে দূরত্ব সৃষ্টি করেছিল, জো বাইডেনের প্রশাসন সেই দূরত্ব দূর করবে; আমেরিকা পৃথিবীর দিকে মৈত্রী ও সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেবে। আমরা বাংলাদেশের জনগণের পক্ষ থেকে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে আন্তরিক অভিনন্দন জানাচ্ছি।

নভেম্বরে নির্বাচনে বিজয়ী ঘোষিত হওয়ার পর জো বাইডেন বলেছিলেন, ‘দিস ইজ দ্য টাইম টু হিল আমেরিকা।’ অর্থাৎ ডোনাল্ড ট্রাম্পের চার বছরের শাসনামলে সামগ্রিকভাবে যুক্তরাষ্ট্রের যে ক্ষতি হয়েছে, সেই ক্ষতি কাটিয়ে ওঠার সময় এখন তাঁর সামনে এসেছে। প্রথম আলোর সম্পাদকীয় নিবন্ধে আমরা আশা প্রকাশ করেছিলাম, প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের নেতৃত্বে মার্কিন প্রশাসন শুধু আমেরিকান রাষ্ট্র ও সমাজের ক্ষতই সারাবে না; আন্তর্জাতিক অঙ্গনের ক্ষতগুলোও সারানোর উদ্যোগ নেবে।

বিজ্ঞাপন

আমরা দেখতে পাচ্ছি, প্রেসিডেন্ট বাইডেন দায়িত্ব গ্রহণের সঙ্গে সঙ্গে তাঁর অঙ্গীকার পালনে তৎপর হয়ে উঠেছেন। প্রথম দিনেই তিনি ১৭টি প্রশাসনিক পদক্ষেপ নিয়েছেন, সেগুলোর মধ্যে ১৫টিই প্রশাসনিক আদেশ। সেসব আদেশের অনেকগুলোর দ্বারা ট্রাম্প প্রশাসনের অনেক উদ্যোগ ও সিদ্ধান্ত বাতিল হয়ে যাবে। যেমন ট্রাম্প প্রশাসন মুসলমান সংখ্যাগরিষ্ঠ কয়েকটি দেশের নাগরিকদের আমেরিকা প্রবেশে যে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছিল, প্রেসিডেন্ট বাইডেন তা তুলে নিয়েছেন। এ ছাড়া ট্রাম্প মেক্সিকোর সীমান্তে প্রাচীর নির্মাণের জন্য যে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছিলেন, প্রেসিডেন্ট বাইডেন এক নির্বাহী আদেশে তার অবসান ঘটিয়েছেন। আরেক নির্বাহী আদেশে স্বাক্ষরের মধ্য দিয়ে তিনি প্যারিস জলবায়ু চুক্তিতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রত্যাবর্তনের পদক্ষেপ নিয়েছেন। জনতুষ্টিবাদী ভেদবুদ্ধি থেকে যুক্তরাষ্ট্রের এভাবে সরে আসতে পারা মার্কিন গণতন্ত্রের অন্তর্নিহিত শক্তিরই পরিচয়। শুভবোধসম্পন্ন নাগরিকদের রায়ে শেষ পর্যন্ত গণতন্ত্রেরই বিজয় হয়েছে।

প্রেসিডেন্ট বাইডেন এমন এক সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করলেন, যখন বিশ্বজুড়ে কোভিড–১৯ মহামারি চলছে। তাঁর দেশ মহামারিতে ভীষণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত; সেখানে সংক্রমণ ও মৃত্যুর হার উভয়ই বেশি। ট্রাম্প প্রশাসন শুরুতে মহামারিকে গুরুত্ব দেয়নি, তারপর যখন উপেক্ষা করতে পারেনি, তখন তা মোকাবিলায় ভীষণ ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে। প্রেসিডেন্ট বাইডেন শপথ গ্রহণের সঙ্গে সঙ্গে মাস্ক পরা ও সামাজিক দূরত্ব রক্ষা করাকে বাধ্যতামূলক করে নির্বাহী আদেশে স্বাক্ষর করেছেন।

যুক্তরাষ্ট্রে সরকার পরিবর্তন বাংলাদেশেও এক বড় আগ্রহব্যঞ্জক বিষয়। যুক্তরাষ্ট্র আমাদের ঘনিষ্ঠ বন্ধু ও বড় উন্নয়ন সহযোগী। দুই দেশের সম্পর্ক আগাগোড়াই প্রীতিপূর্ণ ও সহযোগিতামূলক। আমরা আশা করি, প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের আমলে এ সম্পর্ক দৃঢ়তর হবে। যুক্তরাষ্ট্রের এশিয়া ও দক্ষিণ এশিয়াবিষয়ক নীতি-অবস্থানের বড় কোনো পরিবর্তন ঘটুক বা না ঘটুক, দ্বিপক্ষীয় পর্যায়ে বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্কের আরও উন্নয়ন সাধনের জন্য আমাদের পক্ষ থেকেও প্রয়াস জোরদার করতে হবে।

সম্পাদকীয় থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন