২০১৯ সালে বিশ্ব ঐতিহ্য কমিটির সর্বশেষ সভায় রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্রের কাজ বন্ধ রাখার সুপারিশ করা হয়েছিল। এ ছাড়া পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় পায়রা বিদ্যুৎকেন্দ্রের কাজ বন্ধের জন্যও তারা বলেছিল। ওই বৈঠকের পর নতুন আরেকটি বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের কাজ চলছে বরগুনার তালতলীতে। তিনটি বিদ্যুৎকেন্দ্রকেই সুন্দরবনের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ মনে করছে রিঅ্যাকটিভ মনিটরিং মিশন।

ইউনেসকো থেকে বিশ্ব ঐতিহ্য রক্ষায় শর্ত হিসেবে সুন্দরবনের পাশে স্থাপিত শিল্পকারখানাগুলোর প্রভাব তদারকির জন্য একটি বিশেষজ্ঞ কমিটি গঠনের কথা বলা হয়েছিল। সরকার কমিটি গঠন করলেও এর নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে সংস্থাটি। এ কমিটির বেশির ভাগ সদস্য মন্ত্রণালয়ের সাবেক আমলা। বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর সমন্বয়ের দায়িত্বে থাকা পাওয়ার সেলের মহাপরিচালক বলেছেন, ‘আমরা ইউনেসকোর শর্ত পালনে অনেকগুলো পদক্ষেপ নিয়েছি। আর আমরা যাঁদের বিশেষজ্ঞ কমিটিতে রেখেছি, তাঁদের নিরপেক্ষ না বলা গেলে ইউনেসকো ঠিক করে দিক কারা নিরপেক্ষ।’

এভাবে হাওয়ায় ছড়ি ঘোরালে কাজের কাজ কিছু হবে না। ইউনেসকোর সঙ্গে বসে বিষয়টি ফয়সালা করতে হবে। মিশন কেবল সুন্দরবন রক্ষায় আশপাশের শিল্পকারখানা নিয়েই আপত্তি উত্থাপন করেনি। সুন্দরবন রক্ষায় মিঠাপানির সরবরাহ নিশ্চিত করারও তাগিদ দিয়েছে। বাংলাদেশ ও ভারতের সর্বোচ্চ পর্যায়ের বৈঠকে সুন্দরবন রক্ষার যৌথ টাস্কফোর্স গঠনের কথা বলা হয়েছিল। যদিও তা কার্যকর হয়নি।

সংশ্লিষ্টদের মনে রাখা প্রয়োজন, পরিবেশের বিষয়টি একটি আরেকটির সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। বন বাঁচাতে হলে নদীও বাঁচাতে হবে। আমাদের বেশির ভাগ নদীর উৎস ভারত। অতএব, সুন্দরবনে পানির প্রবাহ ঠিক রাখতে হলে ভারতের সহযোগিতা অপরিহার্য।

১৯৯৭ সালে ইউনেসকো দ্বারা সুন্দরবনকে বিশ্ব ঐতিহ্যের অংশ ঘোষণা ছিল বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত আনন্দ ও গর্বের বিষয়। বাংলাদেশ ও ভারতের পশ্চিমবঙ্গের উপকূলজুড়ে এ বন থাকলেও এর সিংহভাগ পড়েছে বাংলাদেশে। বাংলাদেশের মানুষ চায় বিশ্ব ঐতিহ্যের অংশ হিসেবে সুন্দরবন টিকে থাক। কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর একগুঁয়েমির জন্য আমরা এ গৌরব হারাতে পারি না। এর রক্ষায় প্রয়োজন সমন্বিত ও টেকসই পদক্ষেপ।

সম্পাদকীয় থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন