করোনার কারণে গত দুই বছর ঈদের ছুটিতে অনেকে বাড়িতে যেতে পারেননি, অনেকে ঘুরে বেড়ানোর কর্মসূচিও বাতিল করেছেন প্রতিকূল পরিস্থিতির কথা ভেবে। এবার প্রায় করোনামুক্ত পরিবেশে ঈদ উদ্‌যাপন হলো। স্বাভাবিকভাবেই ঈদে ঘরে ফেরা নিয়েও শঙ্কা বেশি ছিল। আমাদের সড়ক, নৌ ও রেলওয়ে ব্যবস্থাপনার ত্রুটি আছে; আছে সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্যও। টিকিট কাটা থেকে শুরু করে গন্তব্যে পৌঁছানো পর্যন্ত যাত্রীদের নানা ধরনের বিড়ম্বনা ও ভোগান্তির শিকার হতে হয়।

ঈদের আগে প্রথম আলোসহ প্রায় সব জাতীয় সংবাদপত্র ও টেলিভিশনও সচিত্র প্রতিবেদন প্রচার ও প্রকাশ করে কর্তৃপক্ষকে চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছে, পরিবহনে কোথায় কী সমস্যা আছে। ঢাকা-টাঙ্গাইল ও ঢাকা-উত্তরবঙ্গ সড়কের অনেক স্থানে মেরামতকাজ হচ্ছিল, সেটাও উদ্বেগের অন্যতম কারণ ছিল।

প্রতিবছর ঈদের ছুটিতে যাত্রীদের চলাচল বেড়ে যায় ঈদের এক-দুই দিন আগে ও পরে। এবারও বিশেষজ্ঞরা ধারণা করেছিলেন, ঈদের আগের ৪ দিনে ১ কোটি ২০ লাখ মানুষ ঢাকা ছাড়বে। অর্থাৎ প্রতিদিন গড়ে ৩০ লাখ মানুষ গ্রামে যাবে। তার মধ্যে প্রতিদিন প্রায় ১৬ লাখ মানুষ পরিবহনের ব্যবস্থা আছে। বাকি প্রায় ১৪ লাখ মানুষকে যেতে হবে ট্রেন-লঞ্চের ছাদে, কাভার্ড ভ্যান, ট্রাক, মোটরসাইকেল ও অন্যান্য ছোট যানবাহনে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায়।

ছুটির সময় দীর্ঘায়িত হওয়ায় অনেক আগেই যাত্রা করেছে কিংবা পরিবারের সদস্যদের বাড়িতে পাঠিয়ে দিয়েছে। ফলে ঈদের আগে যাত্রীদের অন্যান্যবারের মতো ঘণ্টার পর ঘণ্টা রাস্তায় যানজটে আটকা পড়ে থাকতে হয়নি। এ ছাড়া যেসব সড়কে সব সময় যানজট লেগে থাকে, সেসব সড়কে টহল বাড়ানো হয়। ঈদের আগে ঢাকা-টাঙ্গাইল রুটে দুটি উড়ালসড়কও খুলে দেওয়া হয়।

কোনো সড়কে অস্বাভাবিক যানজট হলে যানবাহনে শৃঙ্খলা রক্ষা করা কঠিন হয়ে পড়ে। সড়কে বিশৃঙ্খলা ও দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ ভারী ও হালকা যানবাহন, স্বল্পগতির ও বেশি গতির বাহন একসঙ্গে চলা। যাত্রী কল্যাণ সমিতি মহাসড়কে মোটরসাইকেল, ইজিবাইক, অটোরিকশা চলাচল নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছিল। এসব যান চলাচল একেবারে বন্ধ না হলেও কমেছে। এটাও দুর্ঘটনা কমার অন্যতম কারণ।

এবারের এ অভিজ্ঞতাকে ভবিষ্যতে কতটুকু কাজে লাগানো যায়, সেদিকে নজর দেওয়া দরকার। এ বছরের মসৃণ ঈদযাত্রায় বাড়তি ছুটির দিন, সড়কব্যবস্থা, প্রশাসনের তদারকি, পরিবহনকর্মীদের দায়িত্ব ইত্যাদি বিষয়—কোনটি কতটুকু ভূমিকা রেখেছে, তা সুনির্দিষ্ট করে বিশ্লেষণ করে সে অনুযায়ী আগামী ঈদযাত্রার ব্যবস্থাপনার সম্ভাব্য পথনির্দেশনা নির্ধারণ করা যেতে পারে। পাশাপাশি মনে রাখা দরকার, মানুষ আবার শহরে ফিরতে শুরু করেছে। সে কারণে আরেক দফা চাপ বাড়ছে সড়কে, লঞ্চে ও ট্রেনে। সে ক্ষেত্রে আগামী কয়েক দিন পরিবহনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সবাইকে সজাগ ও সতর্ক থাকতে হবে।

সম্পাদকীয় থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন