বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

প্রথম আলোর প্রতিবেদন জানাচ্ছে, ১৯৮৫-৮৬ সাল থেকে বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিএমডিএ) গভীর নলকূপের মাধ্যমে ভূগর্ভস্থ পানি তুলে সেচকাজ চালাচ্ছে। এর ফলে পানির স্তর প্রতিবছর যে পরিমাণ নিচে নেমে যাচ্ছে, তা আর পুনর্ভরণ হচ্ছে না। অন্যদিকে হস্তচালিত নলকূপগুলো অচল হয়ে পড়েছে। সাবমার্সিবল পাম্প থেকে পানি তুলে গ্রামবাসীর কাছে বিক্রি করা হয়। তানোরে সব ইউনিয়নেই দেখা গেছে, পানির অভাবে গ্রামে ফাঁকা জমি পড়ে রয়েছে। বিএমডিএর একটি নলকূপের অধীনে আগে ১৫০ থেকে ২০০ বিঘা জমিতে পানি দেওয়া যেত। এখন ৫০ বিঘা জমিতেও পানি দেওয়া যায় না। কোথাও প্রতিবছর পানি ৫০ থেকে ৬০ সেন্টিমিটার করে নিচে নেমে যাচ্ছে। বোরো মৌসুম শুরুর আগে গত সোমবার কোথাও ১৯ দশমিক ৮৫ মিটার নিচে পানি পাওয়া গেছে। এবার শেষ পর্যন্ত পানি হয়তো ২১ মিটার নিচে চলে যাবে। যেখান থেকে আর উঠবে না। এমন পরিস্থিতিতে সেখানে জনজীবন হুমকির মুখে আছে।

রাজশাহী বিভাগে বিএমডিএর ৮ হাজার ৮২৬টি গভীর নলকূপ চালু রয়েছে। এখন গভীর নলকূপ স্থাপন বন্ধ হয়ে গেলেও অনেকেই লুকিয়ে নলকূপ বসাচ্ছেন। পল্লী বিদ্যুতের মাধ্যমে পাম্প মেশিন বসিয়েও পানি তোলা হচ্ছে সেচের জন্য। সেচ কমিটি সেটি দেখভালের দায়িত্বে থাকলেও তারা কার্যকর কোনো ভূমিকা রাখতে পারছে না।

ওয়ারপোর প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ভূগর্ভস্থ পানির সুষ্ঠু ও সুষম বণ্টন নিশ্চিত করার জন্য পানিসম্পদের প্রাপ্যতা নিশ্চিত করতে হবে অর্থাৎ এই এলাকায় কী পরিমাণ পানি আছে, তা জানতে হবে। সংকট মোকাবিলায় ২০১৩ সালে সেখানে একটি পানিনীতি হয়। যেখানে ভূগর্ভের পানি ব্যবহারে ১২টি অগ্রাধিকারের কথা বলা হয়েছে। এতে খাওয়া ও গৃহস্থালি প্রয়োজন মেটানোর পর কৃষির জন্য পানি ব্যবহারের কথা বলা হয়েছে। সেচের জন্য ভূ–উপরিস্থ ও অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ভূগর্ভের পানি ব্যবহার করতে হবে। পানির ব্যবহার কম হয়, এমন ফসলের দিকে কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করা ও প্রণোদনা দেওয়া উচিত। বরেন্দ্র অঞ্চলে পানির মজুত কেমন আছে, তা নির্ণয় করে পানিনীতি অনুসরণ করা হোক।

সম্পাদকীয় থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন