ফ্লাইওভারে ‘রক কিং গ্যাং’

রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে কিশোর গ্যাং বা অপরাধী চক্রের উৎপাত বেড়েছে। এদের বেশির ভাগই মাদকাসক্ত এবং মাদকের অর্থের জোগাড় করতে গিয়ে আরও নানা রকম অপরাধমূলক কাজে লিপ্ত হয়ে পড়ছে।

প্রথম আলোর খবর থেকে জানা যায়, গত ১৬ মে সন্ধ্যার পর মেয়র হানিফ ফ্লাইওভারে একটি কারের গতি রোধ করে চালককে গালাগালি এবং মারধরের চেষ্টা করে রক কিং গ্যাংয়ের সদস্যরা। এ ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে র‍্যাব তদন্তে নামে। সোমবার রাতে শনির আখড়া থেকে তারা এ গ্যাংয়ের পাঁচ সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে; যদিও দলনেতা রকি এখনো পলাতক।

র‍্যাব-৩-এর উপপরিচালক মেজর রাহাত হারুন খানের ভাষ্যমতে, ইয়াবা বড়িসহ ছিনতাইয়ে ব্যবহৃত বিভিন্ন ধরনের অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। তারা শনির আখড়া, মান্ডা, পাগলাসহ ফ্লাইওভারের বিভিন্ন স্থানে অবস্থান নিয়ে ছিনতাই করে। এ দলের সদস্যরা পাবজি গেমে (অনলাইনভিত্তিক অ্যাকশন গেম) আসক্ত। তারা অনলাইনে জুয়া খেলে। ছিনতাই ও মাদক বিক্রিতেও যুক্ত। তাদের দ্বারা কত মানুষ ভুক্তভোগী হয়েছে, এ বিষয়ে অনুসন্ধান চলছে।

কেবল শনির আখড়া নয়, শহরের বিভিন্ন স্থানে এ রকম কিশোর গ্যাং গড়ে উঠেছে; যারা মাদক সেবন, ছিনতাই ও ডাকাতির সঙ্গে জড়িত। এমনকি কিশোর গ্যাংয়ের হাতে কিশোর গ্যাং কিংবা সাধারণ মানুষ খুন হওয়ার ঘটনাও ঘটেছে। এর আগে চট্টগ্রাম, মিরপুর ও গাজীপুরে কিশোর গ্যাংয়ের হাতে মানুষ খুনের ঘটনাও ঘটেছে। আবার কখনো দুই কিশোর গ্যাংয়ের মধ্যে মারামারিতে এর সদস্যরাও মারা গেছে।

বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়, এ কিশোর গ্যাংয়ের বেশির ভাগই পড়াশোনা মাঝপথে বন্ধ হয়ে গেছে। কখনো পড়াশোনা বন্ধ হওয়ার কারণে তারা অপরাধমূলক কাজে জড়িয়ে পড়ে। অপরাধমূলক কাজে জড়িয়ে পড়ার কারণে পড়াশোনায় ইতি ঘটে। এদের পারিবারিক বন্ধনও শিথিল। মা–বাবা জানেন না সন্তান কী করছে। আবার অনেক সময় মা-বাবা সবকিছু জেনেও সন্তানকে প্রশ্রয় দেন। পরে এমন অবস্থা তৈরি হয়, যেখান থেকে আর ফিরে আসার পথ থাকে না।

কিশোর গ্যাংয়ের যেসব সদস্য ইতিমধ্যে ভয়ংকর অপরাধে জড়িয়ে পড়েছে, তাদের আইনের আওতায় আনতে হবে। কিন্তু যারা এখনো বড় ধরনের অপরাধে জড়িয়ে পড়েনি, তাদের সংশোধনাগারে পাঠানো প্রয়োজন। এদের অনেকের বয়স ১৮ বছরের নিচে। কিশোর গ্যাং যাতে তৈরি না হতে পারে, সেই সামাজিক পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে সমাজ ও রাষ্ট্রকেই। অপরাধী হয়ে কেউ জন্মায় না। অতএব, কিশোর অপরাধ দমনে আইন প্রয়োগের পাশাপাশি পারিবারিক, সামাজিক ও প্রাতিষ্ঠানিক শুশ্রূষাও প্রয়োজন।