বিজ্ঞাপন

মাছ ধরতে। কিন্তু তাতে বন মরবে কেন? তাহলে মাছ মারার পুরো প্রক্রিয়া আপনাকে বুঝতে হবে। মাছ ধরার জন্য বাঁধ দিয়ে প্রথমে একটা জায়গার পানি আটকে ফেলা হয়। সাধারণত নদী থেকে বনে ঢোকা খালের মুখে এই বাঁধ দেওয়া হয়। তারপর বদ্ধ জায়গার পানি সেচে শুকিয়ে ফেলা হয়। বাঁধের কারণে জোয়ার-ভাটার নতুন পানিও আর খালগুলোতে ঢুকতে পারে না। গাছের শ্বাসমূলও আর পানি পায় না। কমপক্ষে ২০টি খালে এক মাস ধরে এভাবে বাঁধ দিয়ে পানি বন্ধ করে মাছ ধরছেন জেলেরা। শুধু তা-ই নয়, চটজলদি মাছ ধরতে পানিতে বিষও দেওয়া হচ্ছে। বিষ মেশা এই পানি ভাটার টানে নদীতে গিয়ে পড়ছে, ফলে নদীর প্রতিবেশও নষ্ট হচ্ছে। এ রকম চলতে থাকলে বনে নতুন গাছ জন্মানো তো দূর, যেগুলো আছে সেগুলোও মারা পড়বে।

জেলেরা না হয় অশিক্ষিত, এ ধরনের কর্মকাণ্ডের পরিণাম জানেন না কিংবা জানলেও পেটের দায়ে এই কাজ করতে তাঁরা বাধ্য হয়েছেন। কিন্তু বন বিভাগ কী করছে? বনের ভালোমন্দ দেখভাল করার জন্যই তো তাদের রাখা হয়েছে। আমাদের পটুয়াখালী প্রতিনিধি জানাচ্ছেন, ঠেকানো তো দূরের কথা, বন বিভাগের কিছু কর্মকর্তার সম্মতিতেই এই কর্মকাণ্ড চলছে। নাম গোপন রাখার শর্তে একাধিক মাছ ব্যবসায়ী জানিয়েছেন, প্রতিটি বনে মাছ ধরার জন্য বন বিভাগকে প্রতিবছর এক থেকে দেড় লাখ টাকা দিতে হয়। এই টাকার বিনিময়েই বিনা বাধায় কাজটা করতে পারছেন তাঁরা। বন বিভাগ অবশ্য যথারীতি এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে।

বন বিভাগের দাবি যদি সত্যই হবে, তাহলে আমাদের প্রশ্ন, ছয়টা বনে রীতিমতো গাছ ফেলে ২০টি খালে বাঁধ যখন দেওয়া হলো, তখন তারা কী করছিল?

সম্পাদকীয় থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন