বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

এই সড়ক পাকা হলে যানবাহনের চলাচল বহুগুণ বাড়বে। এতে একদিকে বন্য প্রাণীর স্বাভাবিক জীবন ব্যাহত হবে, অন্যদিকে কাঠ চোরচক্র সহজেই সংরক্ষিত বন থেকে সেগুনগাছ কেটে ট্রাকে করে চম্পট দিতে পারবে।

অর্থাৎ এই পাকা সড়ক হলে তাৎক্ষণিক সুবিধা পাবেন ঠিকাদার ও কাজ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। স্বল্প মেয়াদে বনের মধ্যে বসবাসকারী কিছু পরিবারের যাতায়াতে হয়তো সুবিধাও হবে, কিন্তু দীর্ঘ মেয়াদে এটিকে পরিবেশ ও বনের জন্য ক্ষতিকর সিদ্ধান্ত বলেই মনে করছে বন বিভাগ। এ কারণে তারা এলজিইডির সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকে চিঠি দিয়ে কাজ বন্ধ রাখতে বলেছিল। কিন্তু এলজিইডির কর্মকর্তারা কাজ বন্ধ রাখেননি। তাঁরা বলছেন, পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক মন্ত্রী ও মৌলভীবাজার-১ (বড়লেখা ও জুড়ী উপজেলা) আসনের সাংসদ মো. শাহাব উদ্দিনের ডিও লেটারের পরিপ্রেক্ষিতে রাস্তাটির কাজের দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে। মন্ত্রীর পরামর্শ অনুযায়ী রাস্তার কাজ চলছে বলে তাঁরা নিশ্চিত করেছেন।

যেখানে বন বিভাগ এই রাস্তা পাকাকরণকে ক্ষতিকর বলছে, সেখানে খোদ বনমন্ত্রী তাদের ভাষ্যকে আমলে নিচ্ছেন না। তাহলে প্রশ্ন থেকে যাচ্ছে, এই কাজের মূল সুবিধাভোগী কে বা কারা হবেন। জনপ্রতিনিধিরা জনগণের বৃহত্তর স্বার্থ বিবেচনায় কাজ করবেন—এমনটিই জনগণের স্বাভাবিক প্রত্যাশা। সেই প্রত্যাশাকে নস্যাৎ করে নিয়মবহির্ভূতভাবে ক্ষমতার অপব্যবহার কোনোভাবে কাম্য নয়। সেটি বিবেচনায় নিয়ে এখনই সেখানকার রাস্তা পাকাকরণের কাজ বন্ধ রাখা হোক।

সম্পাদকীয় থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন