বাগেরহাটের শরণখোলার বাসিন্দা আলম হাওলাদার এখন সবার কাছে ‘বাঘবন্ধু’ হিসেবে পরিচিত। সুন্দরবনসংলগ্ন এলাকায় বাঘ পিটিয়ে মারার ঘটনায় কিশোরবেলা থেকেই বন্য প্রাণী রক্ষায় সচেতন হয়ে ওঠেন তিনি। এমনকি বাঘের হামলায় নিজের ভাই মারা যাওয়ার পর তিনি আরও বেশি জড়িয়ে গেলেন বন্য প্রাণী সুরক্ষার কাজে। ১৬ বছরের বেশি সময় ধরে তিনি লোকালয়ে চলে আসা প্রায় ৪০টি বাঘ বনে ফিরিয়ে দেওয়ার কাজে যুক্ত। উদ্ধার করেছেন বাঘের আক্রমণে নিহত পাঁচজনের মরদেহ। বাঘ রক্ষা করতে গিয়ে মানুষের প্রতিরোধের মুখে পড়ার ঘটনাও ঘটেছে একসময়। তবে এখন সুন্দরবনের শরণখোলার আশপাশে কোনো বন্য প্রাণী লোকালয়ে চলে এলেই ডাক পড়ে আলমের। তিনি প্রাণীটিকে উদ্ধার করে আবার বনে ফিরিয়ে দেন।

আলমের মতোই আরেকজন রফিকুল ইসলাম। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগে এই শিক্ষার্থী ‘সাপের বন্ধু’ হিসেবে পরিচিত। পাহাড়ঘেরা ক্যাম্পাসে বনজঙ্গল উজাড় হতে থাকায় দীর্ঘ আকৃতির অজগরসহ গোখরার মতো সাপ খাবারের সন্ধানে বিভিন্ন ফ্যাকাল্টি ভবন, হল ও আশপাশের বসতিতে ঢুকে পড়ছে। তখনই সেই সাপ উদ্ধারে এগিয়ে আসেন রফিক। এখন পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ে ৫০টির অধিক সাপ উদ্ধার করেছেন তিনি। এ কাজে গড়ে তুলেছেন ‘স্নেক অ্যাওয়ারনেস’ নামের একটি সংগঠন। এ ছাড়া বন বিভাগের অনেক কর্মী ও পাহারাদারও বন্য প্রাণী রক্ষায় কাজ করে যাচ্ছেন। গত মাসে চকরিয়ায় ডুলাহাজারায় দলছুট হাতিকে বনে ফেরাতে এর আক্রমণে প্রাণ হারান মো. রহমত উল্লাহ নামের এক পাহারাদার।

বন্য প্রাণী রক্ষায় এভাবে যঁারা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এগিয়ে আসছেন, তাঁদের প্রতি আমাদের অভিবাদন জানাই। এ কাজে মানুষকে আরও বেশি সম্পৃক্ত করতে প্রয়োজন সরকারি উদ্যোগ ও উদ্দীপনা। বন ও প্রতিবেশের দায়িত্ব শুধু সরকারি প্রতিষ্ঠানের নয়, এ বোধ সবার মধ্যে জাগ্রত হোক।

সম্পাদকীয় থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন