গত শনিবার আকস্মিক ঝড়ে বরগুনা সদর উপজেলায় দুটি ইউনিয়নের ১৮০টি ও তালতলী উপজেলায় একটি ইউনিয়নের ২৫০টি বসতঘর বিধ্বস্ত হয়েছে। এ ছাড়া একটি বাজারের বেশ কিছু দোকান, একটি মাদ্রাসা ও একটি মন্দির ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ঝড় উপড়ে ফেলেছে বিদ্যুতের ৫০টি খুঁটি।

প্রথম আলোর বরগুনা প্রতিনিধির পাঠানো খবরে বলা হয়, বরগুনা জেলার সদর উপজেলার বালিয়াতলী ও ঢলুয়া এবং আমতলীর কড়াইবাড়িয়া ইউনিয়নের বেশ কিছু এলাকায় ঝড় আঘাত হানে। সব প্রাকৃতিক দুর্যোগে যেমন গরিব ও নিম্ন আয়ের মানুষ বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়, এখানেও তার ব্যতিক্রম হয়নি। গ্রামের অবস্থাপন্ন মানুষ মোটামুটি শক্ত কাঠামোর ওপর ঘরবাড়ি নির্মাণ করেন। অনেকে পাকা বা আধা-পাকা বাড়ি করেন। ছোটখাটো ঝড়ে সেসব বাড়িঘর ভেঙে পড়ে না। কিন্তু গরিব মানুষের নড়বড়ে ঘর ভেঙে পড়ে সামান্য ঝড়েই।

করোনাকালে এই শ্রেণির মানুষের আয়–রোজগার প্রায় বন্ধ। কাজের সংস্থান নেই। এর ওপর ঝড়ে বসতঘর ভেঙে যাওয়া তাঁদের কাছে ‘মড়ার উপর খাঁড়ার ঘা’। কেউ কেউ প্রতিবেশীদের বাড়িতে সাময়িক আশ্রয় নিলেও অনেকের সেই সুযোগ নেই। ফলে তারা পরিবার–পরিজন নিয়ে খোলা আকাশের নিচেই রাত কাটাচ্ছেন।

এ অবস্থায় অবিলম্বে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষগুলোর কাছে চালসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রী পৌঁছানো দরকার। তাঁদের সামর্থ্য নেই যে বিধ্বস্ত ঘরবাড়ি মেরামত বা পুনর্নির্মাণ করবেন। সে ক্ষেত্রে ঘর মেরামতের জন্য নগদ অর্থও দিতে হবে। স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানরা নিজ নিজ ইউনিয়নের ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের তালিকা করেছেন। এখন প্রশাসনেরই দায়িত্ব সেই তালিকা ধরে জরুরি ভিত্তিতে তাদের কাছে ত্রাণসামগ্রী পৌঁছানো।
একই সঙ্গে ভেঙে পড়া বৈদ্যুতিক খুঁটিগুলো বসানোর ব্যবস্থা করতে হবে। অন্যথায় কেবল ঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষ নয়, পুরো এলাকাবাসীকে অন্ধকারে থাকতে হবে।

করোনা সংকটের কারণে এর প্রতিই স্থানীয় প্রশাসনের বাড়তি নজরদারি থাকবে, সেটা স্বাভাবিক। তাই বলে হঠাৎ ঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষগুলোকে কোনোভাবে উপেক্ষা করা যাবে না।

এখন কালবৈশাখীর মৌসুম। বৈশাখে এর মাত্রা আরও বাড়বে। এ সময়ে সারা দেশেই কম-বেশি ঝড় আঘাত হেনে থাকে। তবে বরগুনার মতো সমুদ্র উপকূলবর্তী যেসব জেলা আছে, সেসব জেলায় ঝড়ের তাণ্ডব বেশি হয়ে থাকে। অতএব, আগে থেকে প্রশাসনকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে।

বরগুনায় ঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষগুলোকে পুনর্বাসন করা হোক।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0