বাঁধ নির্মাণে ঢিলেমি

সম্পাদকীয়

আগাম বন্যা ও পাহাড়ি ঢলের কারণে হাওরের ধান ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার শঙ্কা থাকায় ফসল রক্ষার উপায় হচ্ছে শুষ্ক মৌসুমে টেকসই বাঁধ নির্মাণ করা। বাঁধ নির্মাণে ঠিকাদারদের ব্যাপক অনিয়মের কারণে বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হওয়ায় ২০১৭ সালে হাওরে ধান উৎপাদনে বড় বিপর্যয় হয়েছিল। এরপর থেকে বাঁধের কাজ থেকে ঠিকাদারদের বাদ দিয়ে প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির (পিআইসি) মাধ্যমে কাজ হচ্ছে। এ কাজে যুক্ত করা হয়েছে প্রশাসনকেও। কিন্তু রাজনৈতিক প্রভাব, পাউবো ও প্রশাসনের কর্মকর্তাদের যোগসাজশসহ নানা কারণে এ উদ্যোগও বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।

প্রথম আলোর প্রতিবেদন জানাচ্ছে, এ বছর সুনামগঞ্জে হাওরের ফসল রক্ষা বাঁধ নির্মাণের জন্য ৭০১টি প্রকল্প নির্ধারণ করা হয়েছে। কিন্তু কাজের নির্ধারিত সময় এক মাস পেরিয়ে গেলেও ৫১৮টি প্রকল্পে এখনো কাজ শুরু হয়নি। এর মধ্যে ৩৩টি প্রকল্পের এখনো পিআইসি গঠন করা হয়নি। অথচ বাঁধ নির্মাণের নির্ধারিত সময়সীমা হচ্ছে ১৫ ডিসেম্বর থেকে ২৮ ফেব্রুয়ারি। যথাসময়ে কাজ শুরু না হওয়ায় শেষও হবে দেরিতে। এতে সঠিকভাবে বাঁধ নির্মাণের কাজ শেষ হবে না। সঠিকভাবে নির্মিত না হলে বন্যায় বাঁধ ভেঙে হাওরের বোরো ফসলের ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা করছেন কৃষকেরা।

স্থানীয় কৃষক ও হাওর আন্দোলনের নেতারা জানান, এবার বাঁধের কাজে শুরু থেকেই একধরনের ঢিলেমি লক্ষ করা যাচ্ছে। মাঠপর্যায়ে গণশুনানি করে প্রকল্প নির্ধারণ ও পিআইসি গঠনের দাবি থাকলেও সেটি করা হয় না। স্থানীয়ভাবে প্রভাবশালী ও রাজনৈতিক ব্যক্তিদের প্রভাবে পিআইসি গঠন করা হয়। এতে প্রশাসন ও পাউবো কর্মকর্তাদের একটা যোগসাজশ থাকে, যে কারণে ওই ব্যক্তিরা কাজে গাফিলতি করেন।

প্রকল্প নির্ধারণ ও পিআইসি গঠনে স্বচ্ছতা থাকলে কাজে দুর্নীতি ও অনিয়ম কম হয়।

সময়মতো বাঁধের কাজ শুরু করতে না পারার যুক্তি হিসেবে পাউবো কর্মকর্তারা বলছেন, হাওর থেকে পানি ধীরে নামায় জরিপের কাজ ও প্রকল্প নির্ধারণে সময় বেশি লেগেছে। অন্যদিকে ‘হাওর বাঁচাও আন্দোলন’-এর নেতারা করছেন, পাউবোর কাগুজে হিসাবের সঙ্গে মাঠের অবস্থার কোনো মিল নেই। বহু প্রকল্পে কাজ শুরু হয়নি।

সময়মতো ফসল রক্ষা বাঁধ নির্মাণের কাজ শুরু করতে না পারার পেছনে পাউবোর যুক্তি কতটা গ্রহণযোগ্য? হাওরের বোরো ধান উৎপাদনের সঙ্গে সারা বছরের খাদ্যনিরাপত্তার প্রশ্নটি জড়িত। হাওরে বাঁধ নির্মাণে ঢিলেমির কোনো সুযোগ নেই। গণশুনানি করে প্রকল্প নির্ধারণ এবং রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত ও মূল অংশীজন কৃষকদের নিয়ে পিআইসি গঠন করতে হবে।