বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

কিন্তু ইয়াসের আগমনও আকস্মিক নয়। অন্তত সাত দিন আগে থেকেই তার আগমনী ঘোষণা করছিল দুনিয়ার প্রধান কয়েকটি দেশের আবহাওয়া মডেল। তখন থেকেই কি স্থানীয় পানি উন্নয়ন বোর্ড ও প্রশাসন উদ্যোগ নিতে পারত না? জরুরি ভিত্তিতে জনগণকে সম্পৃক্ত করে বাঁধের যে জায়গাগুলো সবচেয়ে নাজুক, পারত না কি তার সেই জায়গাগুলোকে সারাই করতে? এখন প্রতিকূল আবহাওয়ার মধ্যে প্রবল স্রোতের বিপরীতে যে কাজটা তারা করছে, অনুকূল আবহাওয়ায় সেই কাজটা কি তারা করতে পারত না? ঘটনা ঘটে যাওয়ার পরে কেন এই তৎপরতা, আগে চালালে ক্ষতি কী?

আবহাওয়াবিশারদেরা বলছেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ঝড়–জলোচ্ছ্বাসের মাত্রা ও পরিমাণ সামনের দিনগুলোতে বাড়তেই থাকবে। এ বাস্তবতায় উপকূলকে সুরক্ষিত না করে আমাদের উপায় নেই। উপকূল সুরক্ষার প্রধান পূর্বশর্তই হচ্ছে সুরক্ষিত বাঁধ। সেই ষাটের দশকে দক্ষিণাঞ্চলের এ বন্যানিয়ন্ত্রণ বাঁধগুলো তৈরি করা হয়েছিল। তারপর সিডর, আইলা, মহাসেন, বুলবুল, আম্পান—কত ঝড় এল গেল, কিন্তু সমন্বিত কর্মসূচির আওতায় বাঁধগুলোকে ভালো করে সারানোর কোনো উদ্যোগ দেখা গেল না, বদলে যা করা হয় সোজা বাংলায় তাকে বলে জোড়াতালি, আমরা নিশ্চিত ইয়াসের পরেই তাই হবে। কিন্তু এই জোড়াতালি দিয়ে আর কত দিন।

দক্ষিণাঞ্চলের উপকূলবর্তী মানুষগুলোকে আর কিছু দিতে পারি আর না পারি, নিজ ভিটেমাটিতে নির্বিঘ্নে থাকার পরিবেশটুকু তো অন্তত আমরা নিশ্চিত করতে পারি। খাওয়া-পরার দাবি তো তারা করছে না, উপযুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করা গেলে তার ব্যবস্থা তারা নিজেরাই করে নিতে পারবে। তাদের এই চাওয়াটা কি খুব বেশি?

সম্পাদকীয় থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন