default-image

আবহমানকাল থেকে শর্ষের তেলই ছিল বাঙালির প্রধান ভোজ্যতেল। আর ছিল তিল, তিসি, বাদাম। নব্বইয়ের দশক থেকে ধীরে ধীরে শর্ষের জায়গাটা দখল করে নেয় বিদেশ থেকে আসা সয়াবিন ও পামতেল। স্বাস্থ্যের জন্য খুবই উপকারী হওয়া সত্ত্বেও বাইরে থেকে আসা আরেক তেল সূর্যমুখী কিন্তু সয়াবিন-পামের ধারেকাছেও যেতে পারেনি। প্রধান একটি কারণ মনে হয় দাম, সয়াবিনের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ। তেলটা কখনো তাই গণ হয়ে উঠতে পারেনি। তবে চিত্রটা ক্রমান্বয়ে বদলাচ্ছে। এক দশক আগেও যেখানে তেলটা শুধু সুপারশপ আর অভিজাত দোকানে পাওয়া যেত, আর ক্রেতা ছিল শুধু উচ্চবিত্ত শ্রেণি; এখন সেখানে পাড়ার দোকানেও পাওয়া যাচ্ছে সূর্যমুখী, ক্রেতার তালিকায় উঁকিঝুঁকি মারছে মধ্যবিত্তও। এর একটা কারণ, সুস্থ থাকতে খাদ্যাভ্যাসে পরিবর্তন আনছে মানুষ, আর সুস্বাস্থ্য বিবেচনায় নিলে ভোজ্যতেলের মধ্যে অনেক বিচারেই সেরা সূর্যমুখী। আরেকটা কারণ, সীমিত আকারে এখন দেশেই হচ্ছে সূর্যমুখী। এটাকেই এখন সারা দেশে ব্যাপক আকারে ছড়িয়ে দিতে চাইছে কৃষি বিভাগ।

সূর্যমুখী চাষকে উৎসাহিত করতে এ বছর তাই সরকারিভাবেই প্রণোদনা দেওয়া হয়েছে। জেলায় জেলায় তৈরি করা হয়েছে প্রদর্শনী খেত। উপজেলা কৃষি কার্যালয় থেকে আগ্রহী ব্যক্তিদের বিনা মূল্যে দেওয়া হয়েছে সূর্যমুখীর বীজ। সূর্যমুখী চাষে কৃষকদের সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন উপজেলা ও মাঠপর্যায়ের কৃষি কর্মকর্তারা। সুফলও আসা শুরু হয়েছে। নীলফামারী, মৌলভীবাজার ও নোয়াখালী থেকে আসছে সফল সূর্যমুখী চাষের খবর।

বিজ্ঞাপন

আর এখন যত আমরা সূর্যমুখী সম্পর্কে জানছি, আমাদের মনে তত এই প্রশ্ন জাগছে, এত দিন কেন এই ফুলের চাষ আমরা করিনি। সবদিক দিয়েই এই ফুল আমাদের জল, মাটি, আবহাওয়া ও পরিবেশের উপযোগী। সূর্যমুখী সারা বছর চাষ করা যায়। সব ধরনের মাটিতেই জন্মে। গাছের সবকিছুই কাজে লাগে—বীজ থেকে হয় তেল, বীজ ছাড়ানো ফুলের মাথা ও খইল উৎকৃষ্ট গবাদি খাদ্য, গাছের শুকনা কাণ্ড ও পুষ্পস্তবক উৎকৃষ্ট জ্বালানি। উৎপাদন বিবেচনায়ও এটি লাভজনক ফসল। যেখানে এক কেজি শর্ষে বীজ থেকে মেলে ৩০০-৩৫০ গ্রাম তেল, সেখানে সূর্যমুখী থেকে পাওয়া যায় ৪০০-৪৫০ গ্রাম। সবচেয়ে বড় কথা, বাংলাদেশের অনেক চর অনাবাদি পড়ে থাকে, বাণিজ্যিকভাবে এগুলোতে অনায়াসে সূর্যমুখী চাষ করা যায়। সব মিলিয়ে বাংলাদেশে সূর্যমুখীর সম্ভাবনা উজ্জ্বল।

সম্পাদকীয় থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন