যখন আমরা অনেকেই বলছি, হাসপাতালের বার্ন ইউনিটই আজ দগ্ধ বাংলাদেশের প্রতিচ্ছবি, দগ্ধ মানুষের যন্ত্রণার সঙ্গে যখন অনেকেই একাত্ম হতে চাইছে, তখন আবার বার্ন ইউনিটকে খবর বা শিল্প বা ব্যবসায়িক উদ্দেশ্যে ব্যবহার আমরাই করতে দিচ্ছি। সর্বশেষ ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে আহত ব্যক্তিদের ‘ব্যবহার’ করে আলোকচিত্র এমনকি মিউজিক ভিডিওর ‘কাজ’ সংবাদমাধ্যমের গোচরে এসেছে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ কীভাবে এসব চলতে দিল আর কী মন নিয়েই বা তথাকথিত ‘শিল্পী’রা দগ্ধ মানুষের যন্ত্রণা পুঁজি করে ব্যক্তিগত ইচ্ছা পূরণে নামলেন?
দুস্থ ও দুর্দশাগ্রস্ত মানুষের ছবি খবর বটে, আবার শিল্পের উপকরণও বটে। কিন্তু খবরের কাটতি বাড়ানো কিংবা ‘শিল্পখ্যাতি’ বাড়ানোর উদ্দেশ্যে তাঁদের কষ্টকে পুঁজি করা অমানবিক। আমরা আমাদের যে সহনাগরিকদের নিরাপত্তা দিতে পারিনি, তাঁদের অন্তত সর্বোচ্চ চিকিৎসা এবং নির্ঝঞ্ঝাট পরিবেশ তো দিতে পারি! কিন্তু দুঃখের বিষয়, একশ্রেণির আলোকচিত্রী ও প্রামাণ্যচিত্র নির্মাতা যশ ও খ্যাতির আশায় দলবল নিয়ে সেখানে গিয়ে যন্ত্রণাক্লিষ্ট ব্যক্তিদের উত্ত্যক্ত করেই যাচ্ছেন। এ রকম উত্ত্যক্ত করার দৃশ্য ও খবর গত দুই দিন প্রথম আলোতে প্রকাশিতও হয়েছে।
দুঃস্বপ্নের বাস্তবতা বার্ন ইউনিটেপ্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঢামেক হাসপাতালের বার্ন ইউনিটকে প্রসারিত ও উন্নত করার জন্য সম্প্রতি চার কোটি টাকার অনুদান দিয়েছেন। এটা অভিনন্দনযোগ্য কাজ। পাশাপাশি বলা দরকার, হাসপাতালের ব্যবস্থাপনার বেলায়ও আরও যত্নশীল হতে হবে। বার্ন ইউনিটের চিকিৎসকেরা রাজনৈতিক নাশকতায় দগ্ধ মানুষের বাঁচানোর লড়াই করে যাচ্ছেন। হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষেরই দায়িত্ব, সেখানে চিত্রশিকারিদের যাতায়াত নিয়ন্ত্রণ করা। এর আগে দেখা গেছে, রাজনৈতিক নেতা থেকে শুরু করে ভিআইপি ব্যক্তিরা সেখানে ভিড় জমাচ্ছেন। এতে রোগীদের কষ্টই শুধু বাড়ছে না, তাঁদের মধ্যে রোগ-জীবাণুর সংক্রমণের ঝুঁকিও অনেক বাড়ছে।
বার্ন ইউনিটের চিকিৎসাধীন ব্যক্তিদের কষ্ট দেওয়া ও বিরক্ত করা এখনই বন্ধ হোক।

বিজ্ঞাপন
সম্পাদকীয় থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন