এরপর রাষ্ট্রপক্ষ লিভ টু আপিল (আপিল করার অনুমতি চেয়ে আবেদন) করে। এতে বলা হয়, বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন অনুসারে কোনো নদী থেকে বালু উত্তোলনের জন্য হাইড্রোগ্রাফিক জরিপ প্রতিবেদন একক ভিত্তি নয়। বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন অনুসারে, পরিবেশ, পাহাড়ধস, ভূমিধস অথবা নদী বা খালের পানির স্রোতের গতিপথ পরিবর্তন, সরকারি স্থাপনার (যথা ব্রিজ, কালভার্ট, রাস্তাঘাট, ফেরিঘাট, হাটবাজার, চা-বাগান, নদীর বাঁধ ইত্যাদি) এবং আবাসিক এলাকার কোনো ক্ষতি হবে কি না, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মতামত গ্রহণ করবেন জেলা প্রশাসক।

এই লিভ টু আপিলের পর আপিল বিভাগের চেম্বার বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম গত সোমবার চাঁদপুরের ইউপি চেয়ারম্যান মো. সেলিম খানকে মেঘনার ডুবোচর থেকে বালু উত্তোলনে অনুমতি দিতে হাইকোর্ট যে রায় দিয়েছিলেন, তা ২৫ এপ্রিল পর্যন্ত স্থগিত করেছেন। আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানিতে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল এ এম আমিন উদ্দিন ও ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল কাজী মাঈনুল হাসান। বালু তোলায় হাইকোর্টের দেওয়া অনুমতি স্থগিত হওয়ায় অবাধে ও অবৈধভাবে সেলিম খানের বালু উত্তোলন বন্ধ থাকবে।

মেঘনায় বালু তোলার অনুমতি স্থগিত করে আপিল বিভাগের চেম্বার জজ যে সিদ্ধান্ত দিয়েছে তা স্বস্তিদায়ক। বাংলাদেশের জীবনপ্রবাহের অন্যতম উৎস মেঘনা নদীর ক্ষতি হয়, এমন কোনো পদক্ষেপ চলতে দেওয়া যায় না। ইতিমধ্যে অনেক নদী মরে গেছে বা নাব্যতা হারিয়ে ফেলেছে। কিন্তু স্রোতস্বিনী/ মেঘনার ক্ষেত্রে তা কেন হবে? যদি মেঘনার প্রবাহ সচল রাখতে ড্রেজিংয়ের প্রয়োজন হয়, সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগই করতে পারে।

দুর্ভাগ্যের বিষয়, সেলিম খান যখন আদালতে বালু উত্তোলনের অনুমতি চেয়েছিলেন, সে সময়ে ভূমিসচিব, নৌপরিবহনসচিব, বিআইডব্লিউটিএর চেয়ারম্যান, চাঁদপুরের জেলা প্রশাসক ও হাইড্রোগ্রাফিক বিভাগের পরিচালকের পক্ষ থেকে কোনো আপত্তি জানানো হয়নি। অনেক ক্ষতি হওয়ার পর এখন তাঁরা আপত্তি করছেন। জাতীয় নদী রক্ষা কমিশনের চেয়ারম্যান মঞ্জুর আহমদ চৌধুরীও সরেজমিনে পরিদর্শন করে বালু উত্তোলন বন্ধ করতে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ব্যবস্থা নেওয়ারও নির্দেশ দিয়েছেন। রাষ্ট্রপক্ষ পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চে মেঘনা থেকে নির্বিচার বালু উত্তোলনের ক্ষতির বিষয়টি তথ্য-প্রমাণসহ কতটা সাফল্যের সঙ্গে তুলে ধরতে পারে, তার ওপরই ইলিশের অভয়ারণ্য বলে পরিচিত মেঘনার ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে।

আমরা কোনোভাবে ব্যক্তি ও গোষ্ঠীবিশেষের স্বার্থরক্ষার বিনিময়ে মেঘনাকে হত্যা করতে দিতে পারি না। বালুখেকোদের দৌরাত্ম্য রুখতেই হবে।

সম্পাদকীয় থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন