default-image

মানবজীবনে টাকা যে কত মূল্যহীন, তা বোঝাতে গিয়ে রামকৃষ্ণ পরমহংস বলেছিলেন, ‘টাকা মাটি, মাটি টাকা’। কিন্তু আজকের বাস্তবতায় দেখা যাচ্ছে, ‘মাটিই টাকা, টাকাই মাটি’। অন্তত ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগর উপজেলার সরকারদলীয় কয়েকজন নেতা এ দর্শনকে দৃশ্যত ধ্যানজ্ঞান হিসেবে নিয়েছেন। তাঁরা কৃষিজমি থেকে মাটি কেটে পুকুর বানাচ্ছেন। এরপর তাঁরা শুধু মাটিই বিক্রি করছেন না, সেই পুকুরে মাটি কাটার যন্ত্র বসিয়ে সেখান থেকে ভূগর্ভস্থ বালু তুলে বিক্রি করছেন। উপজেলার পাহাড়পুর ইউনিয়নে তাঁরা প্রায় ২৬ বিঘা জমিতে অন্তত ১০টি পুকুর কেটে বালু তুলছেন। এভাবে বালু তোলার কারণে আশপাশের জমি দেবে যাচ্ছে। ক্ষতিগ্রস্ত পাশের জমির মালিকেরাও একপর্যায়ে এ ‘মাটিখেকো’ চক্রের কাছে মাটি বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন। অনেকে তাতে রাজি না হয়ে উপজেলা প্রশাসনের কাছে নালিশ করেছিলেন। কিন্তু তাতে কাজ হয়নি।

বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইনের ৫(১) ধারা অনুযায়ী, পাম্প বা ড্রেজিং বা অন্য কোনো মাধ্যমে ভূগর্ভস্থ বালু বা মাটি উত্তোলন করা যাবে না। এটি উপজেলা প্রশাসনের না জানার কথা নয়। তারপরও দেড় মাস ধরে এ কাণ্ড ঘটে চলেছে। ভূগর্ভস্থ বালু তুলে নেওয়ার কারণে আশপাশের ফসলি জমিতে পানি দেওয়ার পর সেই পানি অতি দ্রুত ভূগর্ভে নেমে যাচ্ছে। জমির উপরিভাগের মাটি পানি ধরে রাখতে পারছে না। ফসল মার খাচ্ছে।

বিজ্ঞাপন

সবচেয়ে বড় উদ্বেগের বিষয় হলো, মাটিখেকো চক্রটি কৃষকদের নগদ টাকার প্রলোভনে ফেলে ফসলি জমিকে পুকুরে পরিণত করতে রাজি করাচ্ছে। যে কৃষকের এক বিঘা জায়গা আছে, তিনি ওই জমি থেকে ছয়–সাত বছরে যে ফসল পেতেন এবং তাতে যে অর্থ পাওয়া যেত, সেই জায়গার মাটি বেচে তার চেয়ে অনেক বেশি অর্থ তিনি একসঙ্গে পাচ্ছেন এবং একই সঙ্গে মাছ চাষের উপযোগী পুকুরও পাওয়া যাচ্ছে। এতে তাৎক্ষণিকভাবে লাভ হলেও দীর্ঘ মেয়াদে ওই কৃষক এবং তাঁর প্রতিবেশী কৃষকেরও ক্ষতি হচ্ছে।

এ অসাধু চক্র কৃষিজমির মালিকদের মধ্যে নগদ টাকার মোহ যদি পাইকারি হারে সংক্রমিত করে ফেলে, তাহলে তা স্থানীয় পর্যায়ে পরিবেশ বিপর্যয় ডেকে আনবে। সুতরাং প্রশাসন ও পরিবেশ সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে এখনই এদিকে নজর দিতে হবে।

সম্পাদকীয় থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন