বিজ্ঞাপন

কোভিড পরিস্থিতি শুরু হওয়ার পর থেকে বিশেষজ্ঞ ও সমাজবিজ্ঞানীরা বলে আসছেন, বাল্যবিবাহের সংখ্যা বাড়বে। দেশের দরিদ্র ও অসহায় মানুষের সীমাহীন অর্থনৈতিক সংকট, কিশোরীর নিরাপত্তা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকাসহ নানা কারণে এই প্রবণতা বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা তাঁদের। মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের সাম্প্রতিক জরিপ বলছে, জুন মাসে ৪৬২টি কন্যাশিশুর বিয়ে হয়, বন্ধ হয় ২০৭টি। এর আগে মে মাসেও ১৭০টি বাল্যবিবাহ হয়, বন্ধ হয় ২৩৩টি।

বাল্যবিবাহের দিক দিয়ে বিশ্বে বাংলাদেশের অবস্থান চতুর্থ। ইউনিসেফের তথ্য অনুযায়ী, এ দেশে ৫৯ শতাংশ মেয়ের বয়স ১৮ বছর হওয়ার আগেই বিয়ে হয়। আর ২২ শতাংশ মেয়ের বিয়ে হয় ১৫ বছরের আগে। ২০১৫ সালের জুলাইয়ে লন্ডনে অনুষ্ঠিত গার্ল সামিটে অংশ নিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০২১ সালের মধ্যে ১৫ বছর বয়সের আগে এবং ২০৪১ সালের মধ্যে ১৮ বছরের আগে মেয়েদের বিয়ে সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করার লক্ষ্যমাত্রার কথা জানিয়েছিলেন।

করোনা পরিস্থিতিতে নতুন নতুন অসংখ্য সমস্যার মধ্যে বাল্যবিবাহ সম্পর্কে সরকারের মনোযোগ কিছুটা সরে গেছে বলে মনে হয়। যদিও এ ক্ষেত্রে স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকাণ্ড অনেক ক্ষেত্রেই ইতিবাচক। স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনও গড়ে উঠেছে দেশের অনেক এলাকায়। এখন দরকার পারিবারিক সচেতনতা ও সামাজিক আন্দোলন। যে হারে বাল্যবিবাহ বাড়ছে, তাতে সচেতনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি বিদ্যমান আইনের সঠিক প্রয়োগ দরকার।

সম্পাদকীয় থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন