বিআরটিএকে কড়া পদক্ষেপ নিতে হবে

বেসরকারি সংস্থা যাত্রী কল্যাণ সমিতির এক পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, ৮৬ শতাংশ অটোরিকশাচালক চুক্তিতে রাজি হতে যাত্রীদের বাধ্য করছেন। অর্থাৎ সরকার-নির্ধারিত ভাড়া যা-ই হোক না কেন, যাত্রীদের চুক্তি অনুযায়ী মেটাতে হয় ভাড়া। মিটারে গেলেও বকশিশ দাবি করছে ৯৭ শতাংশ। এ ছাড়া যাত্রীদের পছন্দের গন্তব্যে যেতে রাজি হচ্ছেন না ৮২ শতাংশ চালক। যাত্রী কল্যাণ সমিতি সায়েদাবাদসহ ৪০টি এলাকায় এক পর্যবেক্ষণে ২ হাজার ১৬৬টি অটোরিকশার ওপর জরিপ চালিয়ে এসব তথ্য পেয়েছে। চালক-মালিকদের চাহিদা মেনে বছর খানেক আগে ৬০ শতাংশ ভাড়া বাড়ানো হলেও অটোরিকশাচালকেরা এই স্বেচ্ছাচারী আচরণ করছেন। এর ফলে যাত্রীরা পড়ছেন চরম ভোগান্তিতে। চাহিদার তুলনায় অটোরিকশা কম থাকায় যাত্রীরা বেশি ভাড়ায় গন্তব্যে যেতে বাধ্য হচ্ছেন।

অটোরিকশার চালকদেরও বক্তব্য আছে, সরকার প্রতিদিনের জমা ৯০০ টাকা নির্ধারণ করে দিলেও মালিকেরা তাঁদের কাছ থেকে দ্বিগুণ ভাড়া আদায় করছেন। আর বিভিন্ন জায়গা থেকে যাত্রী ওঠানোর জন্য ১০ থেকে ২০ টাকা হারে চাঁদা দিতে হয়। ফলে মিটারে গেলে তাঁদের পোষায় না। মোট কথা যাত্রীরা জিম্মি অটোরিকশাচালকদের কাছে।

যাত্রী কল্যাণ সমিতির প্রতিবেদন অনুযায়ী, কতিপয় অসাধু পুলিশ ও প্রভাবশালীর সহযোগিতায় ১৫ হাজারের বেশি অটোরিকশা বছরের পর বছর অবৈধভাবে চলাচল করছে। এ জন্য প্রতিটি অবৈধ অটোরিকশাকে ৮ হাজার টাকা হারে মাসিক চাঁদা দিতে হয়।

প্রশ্ন হচ্ছে, এ অবস্থা কত দিন চলবে? কারও কি কিছু বলার নেই? গণপরিবহন খাতের এ নৈরাজ্য রুখতে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষকে (বিআরটিএ) এখনই কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। মিটারে না গেলে চালকদের নিবন্ধন বা রুট পারমিট বাতিল করার বিধান রয়েছে। কিন্তু বেশির ভাগ ক্ষেত্রে তা কার্যকর হয় না। এ ব্যাপারে বিআরটিএকে কড়া নজর দিতে হবে। রুট পারমিট বাতিল ছাড়াও জেল-জরিমানার ব্যবস্থা করতে হবে। এ ছাড়া যেসব মালিক দ্বিগুণ হারে জমা আদায় করছেন, চিহ্নিত করে তাঁদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে।