প্রথম আলোর প্রতিবেদন জানাচ্ছে, দীর্ঘদিন ধরে এক্স-রে যন্ত্রটি বিকল থাকায় সাধারণ রোগীদের রংপুর মহানগরের কোনো ডায়াগনস্টিক কেন্দ্র কিংবা অন্য বেসরকারি হাসপাতালে গিয়ে সেটি করাতে হচ্ছে। এতে হয়রানি, ব্যয় ও দুর্ভোগ বেড়েছে। উপজেলায় আর কোথাও এক্স-রে যন্ত্র নেই। ভুক্তভোগীরা জানান, বেসরকারি ক্লিনিকে এক্স-রে করাতে ৬৫০ টাকা ফি দিতে হয়। রংপুরে যাতায়াতের জন্য আরও ৫০০ টাকা ব্যয় হয়। উপরন্তু দুর্ভোগ-হয়রানি তো আছেই। অথচ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এক্স-রে করতে খরচ হয় ২০০ টাকা।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানাচ্ছে, গঙ্গাচড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ৫০ শয্যার। হাসপাতালের একমাত্র এক্স-রে যন্ত্রটি ২০২০ সালের ৪ মার্চ অচল হয়ে পড়ে। গত ২১ মাসে সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে যন্ত্রটি সচল করতে চিঠি-চালাচালি করা হয়েছে। কিন্তু কাজের কাজ কিছু হয়নি। স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে জনবলসংকটে অন্যান্য স্বাস্থ্যসেবাও বিঘ্নিত হচ্ছে। পরিস্থিতি এমন যে কর্মকর্তারা চাঁদা তুলে তিনজনকে দিয়ে হাসপাতালে আয়ার কাজ করাচ্ছেন।

কোভিড-১৯–এ আক্রান্ত রোগীদের ফুসফুস সংক্রমণ কতটা হয়েছে, সেটা বুঝতে বুকের এক্স-রে করা অপরিহার্য। গঙ্গাচড়া উপজেলার সাড়ে তিন লাখ মানুষের চিকিৎসাসেবা এক্স-রে যন্ত্র ছাড়াই চলছে, সেটা অকল্পনীয়। আবার এক্স-রে যন্ত্রটি বিকল থাকলেও টেকনিশিয়ানকে বেতন দিতে হচ্ছে ঠিকই। জনগণ সেবা পাচ্ছেন না, অথচ সরকারি অর্থের অপচয় হচ্ছে।

গঙ্গাচড়া বাংলাদেশের অন্যতম দারিদ্র্যপীড়িত উপজেলা। সেখানকার অধিবাসীরা এক্স-রে যন্ত্র সচল না থাকায় অবর্ণনীয় দুর্ভোগের মুখোমুখি হচ্ছেন। জনমানুষের স্বাস্থ্যসেবার কথা বিবেচনা করে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে স্বাস্থ্য বিভাগকে গঙ্গাচড়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের এক্স-রে যন্ত্রটি মেরামত কিংবা নতুন যন্ত্র প্রতিস্থাপন করতে হবে। সেখানে প্রয়োজনীয় লোকবলও নিয়োগ দিতে হবে।

সম্পাদকীয় থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন