সমাবেশের স্বাধীনতা প্রশ্নে সরকারি দল ও পুলিশ প্রশাসনের দৃষ্টিভঙ্গি এক থাকার কথা নয়। অথচ বিএনপির নেতৃত্বাধীন ২০–দলীয় জোটের সমাবেশ করার প্রশ্নে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ও সরকারি প্রশাসনের বক্তৃতা-বিবৃতিতে অভিন্ন সুরই লক্ষ করা যাচ্ছে। 
গতকাল সারা দেশে ২০ দলের বিক্ষোভ মিছিলের কর্মসূচি ছিল। কিন্তু পুলিশ প্রশাসন আগে থেকেই তাদের মিছিল করতে না দেওয়ার ঘোষণা দেয়। পুলিশ প্রশাসন যে গত ৫ জানুয়ারির আগে থেকেই বিরোধী দলের সভা-সমাবেশের ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়ে আসছিল, এটি তারই ধারাবাহিকতা বলে প্রতীয়মান হয়। মহানগর পুলিশকর্তা বলছেন, ‘তারা শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ করতে চাইলেও তার অনুমতি দেব না। কারণ, আমাদের আস্থা নেই।’ স্পষ্টতই এ মনোভাব আইনবহির্ভূত ও সংঘাতের রাজনীতির পরিপূরক, যা কোনোভাবেই কাম্য নয়।
আমরা উদ্বিগ্ন যে আওয়ামী লীগের নেতা ও পুলিশ প্রশাসন, উভয়ের চোখে অভিন্ন প্রতিপক্ষ হয়ে উঠছে বিএনপির নেতৃত্বাধীন ২০ দল। রাজনৈতিক দল কাউকে প্রতিপক্ষ ভাবলেও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সেটি ভাবতে পারে না। আইনের রক্ষক হিসেবে তারা সরকারি ও বিরোধী নির্বিশেষে সবার প্রতি সমান আচরণ করবে, এটাই প্রত্যাশিত। কিন্তু তাদের সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ডে তার ব্যত্যয় ঘটেছে, যা পরিস্থিতিকে আরও নাজুক করে তুলেছে।
অন্যদিকে সমাবেশের অধিকারের নামে ২০-দলীয় জোটের অনির্দিষ্টকালের অবরোধ ও কয়েক দফা হরতালের পর আজ থেকে ফের টানা ৭২ ঘণ্টার হরতাল জনজীবনকে আরও বেশি বিপর্যস্ত করবে। মানুষ পুড়িয়ে মারার মতো নাশকতা কোনোভাবেই গণতান্ত্রিক অধিকার হতে পারে না। একইভাবে ‘বন্দুকযুদ্ধ’সহ পুলিশের পাইকারি গ্রেপ্তার ও গ্রেপ্তার-বাণিজ্যও কাম্য নয়।
২০–দলীয় জোটকে বুঝতে হবে যে নাশকতানির্ভর অবরোধ–হরতাল আর নিয়মতান্ত্রিক কর্মসূচি একসঙ্গে চলে না। জনগণের জানমালের ক্ষতি করে গণতান্ত্রিক অধিকার আদায় করা যায় না। প্রলম্বিত সংঘাত কোনো পক্ষকেই যে জয়ী করবে না, তা নিঃসন্দেহে বলা যায়।

বিজ্ঞাপন
সম্পাদকীয় থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন