বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

দুর্বৃত্তদের মোকাবিলায় সরকারের পক্ষ থেকে কী কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, অ্যাটর্নি জেনারেল তারও বিবরণ দেন। তিনি বলেন, ২০০১ সালের নির্বাচনের পর যারা সংখ্যালঘুদের ওপর হামলা করেছিল, এবারও তারা সহিংসতা ঘটিয়েছে। কিন্তু দুটি প্রেক্ষাপট ভিন্ন। ২০০১ সালে বিএনপি ক্ষমতায় ছিল, এখন আওয়ামী লীগ ক্ষমতায়। স্বাভাবিকভাবে প্রশ্ন আসে, বিএনপির উসকানিতে সে সময় হামলার ঘটনা ঘটে থাকলে এখন কারা উসকানি দিচ্ছে? আদালত প্রশ্ন রেখেছেন, হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর বিভিন্ন সময়ে হামলা হলেও বিচার হয়েছে কি না? অ্যাটর্নি জেনারেলের উত্তর ছিল: এবার সরকার যথাযথ পদক্ষেপ নিয়েছে এবং দুর্বৃত্তদের গ্রেপ্তার করেছে।

স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকর্তারা যে কৈফিয়তই দিন না কেন, স্বীকার করতে হবে আক্রান্ত সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ঘরবাড়ি ও উপাসনালয় রক্ষায় তাঁরা ব্যর্থ হয়েছেন। ফলে ঘটনা তদন্তে স্থানীয় প্রশাসন থেকে যেসব তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে, তা প্রশ্নের ঊর্ধ্বে নয়। প্রথম আলোসহ বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে যেসব খবর প্রকাশিত হয়েছে, তাতে তঁাদের দায়িত্ব পালনে গাফিলতি, নিষ্ক্রিয়তা অনেকটা স্পষ্ট। অনেক ক্ষেত্রে প্রশাসন ঘটনাস্থলে গেছে সহিংসতা ঘটার পর। কুমিল্লায় কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার সামনেই ঘটনার ভিডিও করা হয়। তিনি কীভাবে সেটি করতে দিলেন?

নোয়াখালীতে একটি মন্দিরে কয়েক ঘণ্টা ধরে হামলা চলেছে, অথচ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সে সময় ডেকেও পাওয়া যায়নি বলে আক্রান্ত ব্যক্তিরা অভিযোগ করেছেন। রংপুরের পীরগঞ্জে যে জেলেপল্লিতে হামলা হয়, সেই পল্লির ৫০০ গজ দূরেই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা পাহারায় ছিলেন। স্থানীয় প্রশাসনের ব্যর্থতার কারণেই সরকার দুটি জেলার পুলিশ সুপারসহ বেশ কয়েকজন পুলিশ কর্মকর্তাকে বদলি ও প্রত্যাহার করে নিয়েছে।

যে প্রশাসন সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ হয়েছে, সেই প্রশাসনের তদন্তে সংখ্যালঘু সম্প্রদায় আস্থা রাখতে পারেনি বলেই বিচারিক তদন্তের আবেদন করেছে এবং উচ্চ আদালত তাদের পক্ষে আদেশ দিয়েছেন। এখন সরকারের উচিত উচ্চ আদালতের আদেশ মেনে যথাসময়ে বিচারিক তদন্ত যাতে সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হয়, সে ব্যাপারে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া। শেষ কথা হলো সুষ্ঠু তদন্ত করলেই হবে না; সেই তদন্ত প্রতিবেদনে কী আছে, তা জানার অধিকার জনগণের আছে।

সম্পাদকীয় থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন