বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

সদ্য দায়িত্ব নেওয়া প্রধান বিচারপতি কেবল সদুপদেশের মধ্যেই তাঁর বক্তব্য সীমিত রাখেননি; মামলাজট নিরসন, বিচারপ্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা-গতিশীলতা আনা ও অনিয়ম অনুসন্ধানে পৃথক কমিটি গঠন করার কথাও বলেছেন। যেকোনো প্রতিষ্ঠান বা বিভাগের দুর্নীতি-অনিয়ম বন্ধে ব্যক্তিগত সদিচ্ছা বা চেষ্টার চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ হলো প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা। আমরা আশা করব, খুব দ্রুতই প্রধান বিচারপতির প্রস্তাবিত মনিটরিং সেল গঠন করা হবে।

বিচার বিভাগের সমস্যা সমাধানে রাষ্ট্রের অপর তিনটি স্তম্ভ নির্বাহী বিভাগ ও আইনসভার সহযোগিতা কামনা করেছেন প্রধান বিচারপতি। তাঁর ভাষায়, ‘রাষ্ট্রের তিনটি অঙ্গের একটি অঙ্গ দুর্বল বা সমস্যাগ্রস্ত হলে রাষ্ট্র শক্তিশালী হতে পারে না।’ সাবেক প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনও বিচার বিভাগের সমস্যা, বিশেষ করে বিচারক-সংকটের কথা বলেছেন। বিচারকের সংখ্যা দ্বিগুণ করার ওপর জোর দিয়েছেন।

প্রধান বিচারপতি আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের ওপর আলোকপাত করেছেন। বিচার বিভাগকে নিয়ে আইনের কাঠামোর মধ্যে যেকোনো গঠনমূলক আলোচনা ও সমালোচনাকে স্বাগত জানানোর কথা বলেছেন। তাঁর এই বক্তব্যকে আমরা স্বাগত জানাই। অতীতে আদালতের রায় বা আদেশের সমালোচনার কারণে গণমাধ্যম ও সাংবাদিকদের নানা রকম হয়রানির নজির রয়েছে। আমরা আশা করব, প্রধান বিচারপতির এই বক্তব্যের পর সমালোচকদের প্রতি বিচার বিভাগের দৃষ্টিভঙ্গিরও আমূল পরিবর্তন ঘটবে, কথিত আদালত অবমাননার দায়ে সাংবাদিকদের অহেতুক আসামির কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হবে না।

প্রধান বিচারপতি যখন বিচার বিভাগে নতুন গতি সঞ্চার করতে চাইছেন, তখন বিচার বিভাগে মামলার জট কিন্তু কমেনি। উচ্চ আদালত থেকে নিম্ন আদালত পর্যন্ত বিচারকের সংকট আছে। আছে অবকাঠামোগত সমস্যা। জেলা আদালতে প্রয়োজনীয় এজলাস না থাকায় বিচারককে পালা করে বসতে হয়। সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট ও আপিল বিভাগে বিচারকের স্বল্পতা আছে। আপিল বিভাগে প্রধান বিচারপতিসহ মাত্র চারজন বিচারক আছেন। এ কারণে বর্তমানে আপিল বিভাগে একটি বেঞ্চে বিচারকাজ চলছে। ২০০৯ সালে ৯ জন বিচারক ছিলেন, যেখানে তিন বেঞ্চে বিচারকাজ পরিচালনা হতো। বিচারাধীন মামলাগুলোর দ্রুত চূড়ান্ত নিষ্পত্তির জন্য আপিল বিভাগে নতুন বিচারক নিয়োগ করা জরুরি।

সম্পাদকীয় থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন