পার্বত্য চট্টগ্রামে বিদেশি নাগরিকদের যাওয়ার ওপর কড়াকাড়ি, আদিবাসীদের সঙ্গে বিদেশি নাগরিকদের আলোচনাকালে স্থানীয় প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের উপস্থিতি বাধ্যতামূলক করাসহ বেশ কিছু বিষয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্প্রতি যে নির্দেশনাটি জারি করেছে, তার যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। একদিকে সরকার পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তির পনেরো আনা বাস্তবায়িত হয়েছে বলে দাবি করে, অন্যদিকে সেখানে নিত্যনতুন বিধিনিষেধ আরোপ করে চলেছে। এটি স্ববিরোধী। 
বিদেশি নাগরিকদের পার্বত্য চট্টগ্রামে যাওয়া বা অবস্থানের ক্ষেত্রে কিছু নিয়মকানুন আগে থেকেই ছিল। যেমন, স্থানীয় প্রশাসনকে অবহিত করতে হয়, যাতে তারা তাদের নিরাপত্তায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে পারে। অতীতে কয়েকজন বিদেশি নাগরিক অপহৃত হওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে এই ব্যবস্থা পুরোপুরি অপ্রয়োজনীয় বলা যাবে না। তাই বলে ৩০ দিন আগে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অনুমতি নেওয়ার বিষয়টি কোনোভাবে গ্রহণযোগ্য নয়। ইউএনডিপিসহ বিভিন্ন সংস্থায় কর্মরত বিদেশি নাগরিকদের নিয়মিতই পার্বত্য চট্টগ্রামে যেতে হয়। এ ছাড়া অনেক বিদেশি পর্যটক সেখানে যান প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করতে। তাঁদের জন্য ৩০ দিন আগে অনুমতির বিধান যেমন অযৌক্তিক, তেমনি বৈষম্যমূলক।
পার্বত্য চট্টগ্রামে শান্তি, স্থিতি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত থাকুক, সেটি সবারই প্রত্যাশা। কিন্তু নিরাপত্তার নামে এমন কিছু করা ঠিক হবে না যাতে সেখানকার বাসিন্দাদের মনে শঙ্কা জাগে। একক সত্তার রাষ্ট্র বাংলাদেশে কোনো এলাকার জন্য বিশেষ আইন বা বিধিনিষেধ আরোপ হতে পারে না। এটি একটি জনগোষ্ঠীর প্রতি অবমাননাকরও।
এ নির্দেশনায় পার্বত্য চট্টগ্রাম কমিশন না সিএইচটি কমিশন নাম ব্যবহার না করার কথা বলা হয়েছে। কোনো সংস্থা দেশের স্বার্থের পরিপন্থী কিছু করলে সরকার তার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নিতে পারে। কিন্তু সেই সংস্থা কী নামে নিজেকে পরিচিত করবে, সেটি নিশ্চয়ই সরকার বা সংস্থা বলে দিতে পারে না।

বিজ্ঞাপন
সম্পাদকীয় থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন