বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

বাংলাদেশ এয়ারলাইনস পাইলট অ্যাসোসিয়েশন (বাপা) তাঁদের দাবি মেনে নেওয়ার জন্য বিমান কর্তৃপক্ষের কাছে অন্তত ১০ বার চিঠি দিলেও কোনো জবাব আসেনি। তাঁরা বিমানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যানের সঙ্গে একাধিকবার বৈঠক করেছেন। বিমান কর্তৃপক্ষের ভাষায় সেসব বৈঠক ‘সফল’ হয়েছে, কিন্তু বাস্তবে সমস্যার সমাধান হয়নি। পাইলটরা মনে করেন, তঁাদের বঞ্চিত করা হয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে পাইলটরা মাসে নির্ধারিত ৭৫ ঘণ্টা বিমান চালনার পর বাড়তি কাজ না করার সিদ্ধান্ত নেন। ফলে সোমবার দোহাগামী ও দুবাইগামী দুটি ফ্লাইট নির্ধারিত সময়ে যেতে পারেনি। তবে কর্তৃপক্ষের আশ্বাসে পরে পাইলটরা কর্মসূচি স্থগিত ঘোষণা করেন এবং রাষ্ট্রীয় পরিবহন সংস্থার স্বার্থের কথা ভেবে তঁারা অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করছেন। বিমানের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, আগামী শনিবার বোর্ড সভায় পাইলটদের দাবির বিষয়টি উত্থাপিত হবে এবং সমাধানের চেষ্টা করা হবে। বর্তমানে বিমানে ১৫৭ জন পাইলট আছেন।

উল্লেখ্য, করোনা পরিস্থিতিতে গত বছরের ৫ মে এক প্রশাসনিক আদেশে বিমানের কর্মকর্তা-কর্মচারী ও পাইলটদের বেতন কমানো হয়। এতে পাইলটদের বেতন কমে ২৫ থেকে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত। বন্ধ হয় ওভারসিজ অ্যালাউন্স, যা স্থায়ী বেতনের অংশ। ফলে মোট বেতন কমার হার দাঁড়িয়েছিল ৫৭ থেকে ৬৫। এ ছাড়া ওভারটাইম, প্রোডাকটিভিটি অ্যালাউন্স ও ফ্লাইং অ্যালাউন্সও বন্ধ রাখা হয়। এরপর চলতি বছরের মার্চের প্রথম সপ্তাহে বিমান বেতন কর্তনের হার ১০-এ কমিয়ে আনে। আর যেসব পাইলট ৫ থেকে ১০ বছর পর্যন্ত চাকরি করছেন, তাঁদের কর্তনের হার ২০ থেকে কমিয়ে ৫ করা হয়েছে। আর যাঁরা ১০ বছরের বেশি সময় কাজ করছেন, তাঁদের কর্তনের হার ৪০ থেকে কমিয়ে ২৫ করা হয়েছে।

পাইলটদের কাছে কর্তৃপক্ষের এ সিদ্ধান্ত গ্রহণযোগ্য মনে হয়নি। তঁাদের দাবি, গত তিন মাসে বিমানের অন্য কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন পুরোটা সমন্বয় করা হলেও পাইলটদের মোট বেতনের ৪৮ শতাংশ সমন্বয় করা বাকি আছে। করোনার দোহাই দিয়ে পাইলটদের বেতন–ভাতা কমানো হয়েছে কিন্তু বিমানের শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তাদের বেতন-ভাতা এক পয়সাও কমানো হয়নি। কর্তৃপক্ষকে মনে রাখতে হবে, করোনার ধকল কাটিয়ে ওঠার ক্ষেত্রে পাইলট ও ক্রুদের বড় ভূমিকা রয়েছে। দীর্ঘ বিরতির পর যখন আকাশ পরিবহন স্বাভাবিক হয়ে আসছে, তখন রাষ্ট্রীয় পরিবহন সংস্থায় এ অচলাবস্থা কাম্য নয়। কোনো কারণে বিমানে অচলাবস্থা দেখা দিলে বেসরকারি ও বিদেশি বিমান সংস্থাগুলোই সে সুযোগ নেবে।

বিমান কর্তৃপক্ষের উচিত হবে সমস্যাটি ঝুলিয়ে না রেখে পাইলটদের সঙ্গে আলোচনা করে দ্রুত সমাধান করা ও তাঁদের ন্যায্য দাবি মেনে নেওয়া। বিমানের অন্য কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা পুরোটা সমন্বয় করা হয়ে থাকলে পাইলটদের ক্ষেত্রে তার ব্যতিক্রম হবে কেন? আর পাইলটদের করোনার সম্মুখসারির যোদ্ধা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার বিষয়টি সরকারের নীতিগত সিদ্ধান্তের বিষয়। অস্বীকার করা যাবে না করোনাকালে তঁারা ঝুঁকি নিয়ে ফ্লাইট পরিচালনা, যাত্রী ও পণ্য পরিবহন এবং বিদেশ থেকে আমদানি করা টিকা দেশে নিয়ে এসেছেন।

সম্পাদকীয় থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন