বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

মহামারি রোধে গোটা বিশ্বে দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ছিল, অন্য সবার মতো শিশুরা ঘরবন্দী হয়ে পড়ে; যা ছিল তাদের মানসিক বিকাশের পথে বড় বাধা। পরবর্তী সময়ে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুললেও স্বাভাবিক জীবনের সঙ্গে এখনো খাপ খাইয়ে নিতে পারেনি শিশুরা। আমাদের সমাজ ও পরিবারে মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে সচেতনতা নেই বললে চলে। ফলে মহামারি–পরবর্তী শিশুদের মানসিক বিপর্যস্ততা থেকে বের করে আনাই এখন খুব জরুরি। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে যুক্ত করা হোক মানসিক স্বাস্থ্যসেবা। সন্তানের বেড়ে ওঠায় পরিবার ও মা-বাবার একতরফা সিদ্ধান্তও অনেক সময় শিশুর মানসিক বাধা হয়ে দাঁড়ায়। শিশুর ওপর কোনো কিছু চাপিয়ে দেওয়া যে হিতে বিপরীত হতে পারে, সেটি আমরা দেখতে পাই আত্মহত্যার ঘটনায়। ফলে শিক্ষক, অভিভাবক সবাইকে শিশুর প্রতি সংবেদনশীল হতে হবে। আমাদের শিক্ষাব্যবস্থাও অনেক ক্ষেত্রে শিশুবান্ধব নয়। পরীক্ষার চাপ থেকে তাদের রেহাই দেওয়া সময়ের দাবি।

করোনা মহামারিতে অনেক শিশু স্কুল থেকে ঝরে গেছে। পরিবারের অর্থনৈতিক পরিস্থিতির ধাক্কা সামাল দিতে শিশুশ্রমে যুক্ত হয়েছে অনেকে। একইভাবে বাল্যবিবাহের শিকার হয়েছে অনেক মেয়ে। তাদের আবার ক্লাসে ফিরিয়ে আনাটা বড় চ্যালেঞ্জ। শিশু নির্যাতনের বিষয়টি দিন দিন আরও গুরুতর হয়ে উঠছে। এর সঙ্গে যুক্ত আছে যৌন নিপীড়নও। বিষয়টি নিয়ে পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রের অধিক মনোযোগী হওয়া দরকার। মানসিকভাবে সহায়তার পরিবর্তে উল্টো দোষারোপের শিকার হয় ভুক্তভোগী শিশুরা। এ সংস্কৃতি থেকে বের হয়ে না এলে এই পৃথিবী কীভাবে শিশুদের জন্য নিরাপদ হবে?

আমাদের স্বাস্থ্যব্যবস্থার করুণ চিত্র গত দুই বছরে আমরা দেখেছি। জলবায়ু পরিবর্তন ছাড়াও জেনেশুনে পরিবেশের ক্ষতি আমরা করে চলেছি। রুগ্‌ণ স্বাস্থ্যব্যবস্থা ও পরিবেশের বিপন্ন দশার সবচেয়ে বড় শিকার শিশুরা। ফলে উন্নত একটি বিশ্ব গড়তে চাইলে উন্নত স্বাস্থ্যব্যবস্থা ও পরিবেশ সুরক্ষার কোনো বিকল্প নেই। শিশু দিবসে শিশুর অধিকার রক্ষা নিয়ে আমরা আলোচনা করি। গণমাধ্যমেও নানা প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়। দিবসকেন্দ্রিক না থেকে বছরব্যাপী বিষয়গুলো আলোচনা হোক। তাতেই আমাদের পরিবার, সমাজ, রাষ্ট্র শিশুবান্ধব হয়ে উঠবে।

সম্পাদকীয় থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন