দুর্নীতির ব্যাপ্তি ও তীব্রতার সূচকের সুপারসনিক উল্লম্ফনে ‘পুকুরচুরি’ শব্দবন্ধটি এখন আর দুর্নীতির বিশালত্বের দ্যোতনা বহন করে না। ‘সাগরচুরি’র ঘটনা সংবাদমাধ্যমের প্রাত্যহিক অনুষঙ্গ হয়ে ওঠায় পুকুরচুরি নৈমিত্যিক ব্যবহার্য নিতান্ত নিরীহ গোছের ছোটখাটো অনিয়মের সমার্থক হয়ে দাঁড়িয়েছে। শুধু প্রতীকী নয়, আক্ষরিক অর্থেও চোখের সামনে সরকারি পুকুর এমনকি নদী চুরির ঘটনা ঘটছে। জনগণের অবারিত ব্যবহার্য খাল ও নদীবক্ষে বাঁধ কিংবা বেড়া দিয়ে প্রথমে মৎস্য চাষ ও পরে সুযোগমতো ভরাটের মাধ্যমে তা পৈতৃক সম্পত্তি জ্ঞানে আত্তীকরণ কোনো বিরল ছবি নয়। ‘জাল যার জলা তার’—রাজনৈতিক ভাষণে এ কথা গণনাতীতবার উচ্চারিত হলেও বলশালী মহলের খাল ও নদী দখলের প্রবণতা স্তিমিত হয়নি।

এই চোখ–সওয়া খাল চুরি ও নদী চুরি পরিস্থিতির মধ্যে দখলদার উচ্ছেদের আশাবাহী উদাহরণ তৈরি করেছে রাজশাহী জেলা প্রশাসন। প্রশাসনের হস্তক্ষেপে পদ্মা নদীতে প্রভাবশালীদের বেড়া দিয়ে মাছ চাষ রুখে দেওয়া হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

প্রথম আলোর খবর থেকে জানা যাচ্ছে, রাজশাহীর পদ্মা নদীতে মাছ চাষের জন্য বৃহস্পতিবার সকালে বাঁশ দিয়ে বেড়া দেওয়া শুরু করেছিলেন শাহীন ও আপেল নামের রাজশাহী মহানগর সৈনিক লীগের দুই নেতা। নগরের ফুদকিপাড়ায় অডোভার মুনসগার্ড পার্ক এলাকা দিয়ে বয়ে যাওয়া পদ্মা নদীতে বাঁশ দিয়ে বেড়া দেওয়া শুরু করেছিলেন তাঁরা। নদী বা নদীর কোনো অংশে বেড়া বা ঘের দিয়ে মাছ চাষ বেআইনি হলেও তাঁরা তা মানতে নারাজ। অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মুহাম্মদ শরিফুল হক বিষয়টি জানার পর বেড়া অপসারণের নির্দেশ দেন। বিকেলে পবা উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. আবুল হায়াত পুলিশ নিয়ে হাজির হন। তাঁদের হস্তক্ষেপে বাঁশের বেড়া তুলে নেন এবং ভবিষ্যতে তাঁরা এ কাজ করবেন না বলে মুচলেকা দেন।

এ ঘটনার প্রতীকী গুরুত্ব আছে। কারণ, একই উপায়ে দেশের খাল, বিল, নদ–নদী দখল করা হচ্ছে। দীর্ঘদিন দখল করে রাখার পর রাষ্ট্রের এসব সম্পদকে দখলদারেরা স্বোপার্জিত বৈধ সম্পদ মনে করতে থাকেন। তঁারা তখন ‘উদীয়মান’ দখলদারদের ‘দৃষ্টান্তমূলক অনুপ্রেরণা’ হয়ে ওঠেন।

সুতরাং মহিরুহ হয়ে ওঠার আগেই এই শ্রেণির দখলদারদের উচ্ছেদ করা একান্ত প্রয়োজন। আর উচ্ছেদ টেকসই করার জন্য প্রয়োজন
নিয়মিত নজরদারি।

মন্তব্য পড়ুন 0