বিজ্ঞাপন

বর্তমানে ভারতে করোনা মহামারির সঙ্গে ব্ল্যাক ফাঙ্গাসের প্রাদুর্ভাব ঘটেছে। দিল্লি, মহারাষ্ট্র ও গুজরাটে তা ছড়িয়ে পড়েছে। তবে বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী পশ্চিমবঙ্গ, আসাম, ত্রিপুরা ও মেঘালয়ে পরিস্থিতি বিপজ্জনক নয়। এটা বাংলাদেশের জন্য কিছুটা স্বস্তিদায়ক হলেও সর্বোচ্চ সতর্ক থাকতে হবে। সীমান্তবর্তী কয়েকটি জেলায় বেশ কয়েকজন করোনা রোগীর সন্ধান পাওয়া গেছে, যঁাদের শরীরে ভারতীয় ধরনের ভাইরাস আছে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে ব্ল্যাক ফাঙ্গাস। এই রোগের লক্ষণগুলোর মধ্যে রয়েছে সাইনাসের ব্যথা, এক নাক বন্ধ হয়ে যাওয়া, মাথার এক পাশে ব্যথা, ফুলে যাওয়া, দাঁতে ব্যথা ইত্যাদি। এই রোগে নাকের ওপর কালচে দাগ, ঝাপসা দেখা, একটি জিনিসকে দুটো দেখা, বুকে ব্যথা, শ্বাসকষ্ট এবং কফের সঙ্গে রক্ত আসতে পারে।

ভারতের রাষ্ট্রায়ত্ত ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অব মেডিকেল রিসার্চ (আইসিএমআর) ডায়াবেটিসে আক্রান্ত কোভিড রোগীদের চিকিৎসায় নিয়োজিত চিকিৎসকদের প্রতি ব্ল্যাক ফাঙ্গাসের সংক্রমণ শনাক্তে প্রাথমিক লক্ষণগুলোর প্রতি সতর্ক থাকার যে পরামর্শ দিয়েছে, তা বাংলাদেশের জন্যও সমানভাবে প্রযোজ্য।

আমরা জানতে পেরেছি, স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তারা ব্ল্যাক ফাঙ্গাস প্রতিরোধে দিকনির্দেশনা তৈরির পরিকল্পনা নিয়েছেন। অন্যদিকে কোভিড-১৯-সংক্রান্ত জাতীয় কারিগরি উপদেষ্টা কমিটি সুপারিশমালা তৈরির প্রস্তুতি নিচ্ছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের জনস্বাস্থ্য উপদেষ্টা কমিটি প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নিতেও কাজ করছে। এসব পরিকল্পনা দ্রুত আলোর মুখ দেখবে আশা করি। ব্ল্যাক ফাঙ্গাস গবেষণার ক্ষেত্রে বাংলাদেশে বেশ কিছু উন্নত গবেষণাগার আছে, সেগুলো কাজে লাগানো যেতে পারে।

বারডেম হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সেখানে প্রতি মাসে ব্ল্যাক ফাঙ্গাসে আক্রান্ত দুই থেকে তিনজন রোগী ভর্তি হয়ে থাকেন। সে ক্ষেত্রে সাম্প্রতিক কালে তিনজন রোগীর ভর্তি হওয়া (যাঁদের মধ্যে একজন মারা গেছেন।) হয়তো অস্বাভাবিক নয়। কিন্তু এ ধরনের রোগীর চিকিৎসার জন্য যে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক, চিকিৎসা সরঞ্জাম ও অবকাঠামোগত সুবিধা হাসপাতালে আছে, তা-ও খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। সব রোগীকে প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে ঢাকায় এনে চিকিৎসা করানো সম্ভব নয়। উপজেলা পর্যায়ে না হোক, জেলা পর্যায়ে প্রয়োজনীয় চিকিৎসক ও অবকাঠামোগত সুবিধা নিশ্চিত করতে হবে।

ব্ল্যাক ফাঙ্গাসে আক্রান্ত হওয়ার সঙ্গে কোভিড রোগীদের চিকিৎসায় স্টেরয়েডের ব্যবহার এবং সে কারণে রোগ প্রতিরোধক্ষমতা কমে যাওয়ার বিষয়টি বিশেষজ্ঞ মহলে আলোচনায় এসেছে। সে কারণে হাসপাতালের বাইরে যাতে কোভিড রোগীদের স্টেরয়েড ব্যবহার না করা হয়, তা-ও নিশ্চিত করা জরুরি। ব্ল্যাক ফাঙ্গাস নিয়ে জনমনে যেন আতঙ্ক সৃষ্টি না হয়, সে জন্য সরকারের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় প্রচারণা এবং জনসচেতনতা সৃষ্টির উদ্যোগ নিতে হবে।

সম্পাদকীয় থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন