বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

প্রথম আলোর সৈয়দপুর প্রতিনিধি সরেজমিন যে পরিস্থিতি দেখতে পেয়েছেন, তা এককথায় নৈরাজ্যিক। শহরের পুলিশ বক্সের কাছে রেলগেটের উত্তরে বসেছে জুসের দোকান, লেপ-তোশকের দোকান এবং দক্ষিণে বিশাল এলাকাজুড়ে পিকআপ স্ট্যান্ড। শত শত পিকআপ দাঁড়িয়ে আছে ভাড়ার অপেক্ষায়। এর পাশে পাইকারি ফলের বাজার। রেললাইনের পশ্চিম পাশে বড় বড় কামারশালা। সেখানে তৈরি হচ্ছে দা, কুড়াল। উভয় পাশে রেস্তোরাঁ, মাংসের দোকান, ছোট ছোট শিল্পকারখানা, কাপড়, স্যান্ডেলসহ নিত্যপণ্যের দোকান। রেললাইনের উভয় পাশে কোনো জায়গা ফাঁকা না পেয়ে অনেকে আবার রেললাইনের ওপরেই বসেছেন। ঈদ সামনে রেখে সকাল থেকে রাত পর্যন্ত লোকজন গিজগিজ করছে।

রেললাইনে এভাবে দোকান নিয়ে বসা মানে যে জীবনকে ভাগ্যের হাতে সঁপে দেওয়া, সেটা দোকানিদের ভাষ্যেই স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। স্যান্ডেল বিক্রেতা আজমত আলী বলেন, ‘ট্রেন এলে আমাদের দৌড়াদৌড়ি করা ছাড়া কোনো উপায় থাকে না। ক্রেতা-বিক্রেতা সবাই আতঙ্কে থাকেন।’ দোকানিরা তাঁদের জন্য শহরের বাইপাস সড়কের পাশে উপযুক্ত কোনো স্থানে হকার্স মার্কেট করে দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। রেলওয়ে পুলিশের ভাষ্য, রেললাইনের আশপাশে গড়ে তোলা অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হলেও আবার আগের অবস্থায় ফিরে আসে। বিষয়টি মানবিক, তাই পুলিশ কোনো কোনো ক্ষেত্রে কঠোর হতে পারে না।

সৈয়দপুরের ওই রেললাইনে তিন মাসে যখন পাঁচজনের প্রাণহানি হয়েছে, তখন পুলিশের এ বক্তব্য কতটা সমর্থনযোগ্য। অনেক মানুষের জীবিকা ও জীবনের প্রশ্নটি এখানে জড়িত। স্থায়ী সমাধান না করা গেলে লোকদেখানো উচ্ছেদ আবার দোকান নিয়ে বসা—এ রমক চলতেই থাকবে। আমরা মনে করি, হকার্স মার্কেটের মাধ্যমে দোকানিদের পুনর্বাসনই এ সমস্যার স্থায়ী সমাধান। এ জন্য উপজেলা প্রশাসন, রেলওয়ে পুলিশ ও পৌরসভাকে সম্মিলিতভাবে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। সবার আগে মানুষের জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।

সম্পাদকীয় থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন