বাংলাদেশের সাধারণ শিক্ষার মান নানা কারণেই প্রশ্নবিদ্ধ। বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায় বা চিকিৎসা বা প্রকৌশল শিক্ষার মতো বিশেষায়িত শিক্ষার ক্ষেত্রে মান ধরে রাখার প্রাথমিক উদ্যোগ হচ্ছে যথাযথ ভর্তি পরীক্ষার মাধ্যমে যোগ্যদের ভর্তি করা। এ ক্ষেত্রে শৈথিল্য দেখানো মানে শুরুতেই মান নিচে নামিয়ে ফেলা। বেসরকারি ডেন্টাল কলেজে ভর্তির ক্ষেত্রে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে, তাকে সেদিক থেকে আত্মঘাতী হিসেবেই বিবেচনা করতে হবে।
বর্তমান নিয়ম অনুযায়ী বেসরকারি ডেন্টাল কলেজে ভর্তির ক্ষেত্রে ন্যূনতম পাস নম্বর ছিল ৪০। সেটাকে কমিয়ে ৩০ করার অর্থ হচ্ছে কম যোগ্য ও কম মেধাবীদের ভর্তির সুযোগ করে দেওয়া। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এই অগ্রহণযোগ্য কাজটি যে কৌশলে করেছে, সেটা খুবই অনৈতিক। নম্বর কমানোর কাজটি তারা করেছে গোপনে এবং সংশ্লিষ্ট কারও সঙ্গে আলাপ-আলোচনা না করে।
বেসরকারি পর্যায়ে চিকিৎসা শিক্ষার মান নিয়ে নানা প্রশ্ন রয়েছে। এ ধরনের বিশেষায়িত শিক্ষার জন্য যে ধরনের অবকাঠামোগত ও কারিগরি সুযোগ-সুবিধা থাকার প্রয়োজন, তা অনেক ক্ষেত্রেই নেই। দক্ষ লোকবলেরও সংকট রয়েছে। এখন যদি শিক্ষার্থীদের মানও খারাপ হয়, তবে সামগ্রিকভাবে চিকিৎসা শিক্ষার মান কোথায় গিয়ে দাঁড়াবে?
বাংলাদেশ মেডিকেল ও ডেন্টাল কাউন্সিল, পেশাজীবী চিকিৎসকদের সংগঠন বিএমএ বা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় চিকিৎসা শিক্ষার মান নিশ্চিত করতে পরীক্ষার নম্বর কমানোর বিপক্ষে ছিল। সাধারণভাবে সংশ্লিষ্ট এই মহলগুলোর সঙ্গে পরামর্শ করেই এসব ক্ষেত্রে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। স্বার্থান্বেষী মহলের স্বার্থ রক্ষার জন্যই যে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে গোপনে এ ধরনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, সেটা স্পষ্ট। এর পেছনে দুর্নীতি ও অনিময় কাজ করে থাকতে পারে।
কাদের স্বার্থে এই কাজ করা হলো, তার তদন্ত প্রয়োজন। একই সঙ্গে চিকিৎসা শিক্ষার মান বজায় রাখার স্বার্থে আত্মঘাতী এই সিদ্ধান্ত বাতিল করতে হবে।

বিজ্ঞাপন
সম্পাদকীয় থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন