বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

প্রথম আলোর প্রতিবেদন জানাচ্ছে, কৃষিজমির উপরিভাগের মাটি কাটায় জমির উর্বরতা কমে যাচ্ছে। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা বলছেন, ফসলি জমির উপরিভাগের ৬ থেকে ৮ ইঞ্চির মধ্যে মাটির জৈব উপাদান থাকে। সেই মাটি কাটা হলে জমির জৈব উপাদান চলে যায়। এতে জমির স্থায়ী ক্ষতি হয়। ফসলি জমির মাটি কাটা তাই বেআইনি। এ কাজে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া উচিত উপজেলা প্রশাসনের।

সখীপুর উপজেলায় ১২টি ইটভাটা রয়েছে। আশপাশের উপজেলার তুলনায় সংখ্যাটি কমই বলতে হবে। পাশের কালিহাতীতে ৫৫টি ও ঘাটাইলে ৬৮টি ইটভাটা রয়েছে। ওই উপজেলাগুলোর ইটভাটাতেও সখীপুর থেকে মাটি যাচ্ছে। ফসলি জমির মাটি বেচাকেনার কাজে একশ্রেণির ব্যবসায়ী গড়ে উঠেছে। তাঁরা বছরের বিভিন্ন সময় (অফ সিজন) কম দামে একর বা বিঘা চুক্তিতে কৃষকের জমির মাটি কিনে রাখেন। ইটভাটার মৌসুমে জমি থেকে মাটি কেটে তা বেশি দামে ইটভাটায় সরবরাহ করেন। কোনো কোনো কৃষক সরাসরি ভাটার মালিকের কাছ থেকে অগ্রিম টাকা নিয়ে মাটি বিক্রি করছেন। প্রতি বিঘা জমির মাটির জন্য ৩০ থেকে ৪০ হাজার টাকা হারে চুক্তিও করা হচ্ছে কৃষকদের সঙ্গে।

উপজেলার বহেড়াতৈল, কাঁকড়াজান, যাদবপুর ও হাতীবান্ধা ইউনিয়নের গ্রামগুলো থেকে খননযন্ত্রের সাহায্যে এসব মাটি কেটে ট্রাক্টর ও ট্রাকের সাহায্যে বিভিন্ন ইটভাটায় নিয়ে যাওয়া হয়। বহেড়াতৈলের ইউপি চেয়ারম্যান ওয়াদুদ হোসেন বলেন, মাটি আনা-নেওয়ার ক্ষেত্রে গ্রামীণ সড়ক দিয়ে বড় চাকার ট্রাক্টর চলছে। ফলে গ্রামীণ সড়ক নষ্ট হচ্ছে। এসব ট্রাক্টরের মালামাল পরিবহন করে রাস্তায় চলার অনুমতি নেই। ইউএনও চিত্রা শিকারি বলেন, এ ব্যাপারে কৃষকদের সচেতন করে তুলতে হবে। মাটি পরিবহনে যাতে সড়কে অবৈধ ট্রাক্টর না চলে, সে বিষয়ে শিগগিরই প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। এখন তিনি কী পদক্ষেপ নিচ্ছেন, সেটিই দেখার অপেক্ষা।

সম্পাদকীয় থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন