default-image

কেউ ভিক্ষা চাইলে আমাদের সাধারণ বুলি হচ্ছে, ‘কাজ করে খেতে পারো না?’ জবাবে তাঁদের কেউ যদি বলে বসেন, ‘পারি, কাজ দেন,’ তাহলে আমাদের অনেকেরই হয়তো আর মুখে বুলি ফুটবে না। কোটালীপাড়া উপজেলা পরিষদ ওই পথে হাঁটেনি। আগে তারা কর্মসংস্থান সৃষ্টি করেছে, তারপর ভিক্ষাবৃত্তি পরিত্যাগ করতে বলেছে। তাদের আহ্বানে সাড়া দিয়ে ভিক্ষাবৃত্তি ছেড়ে কাজে যোগ দিয়েছেন ওই এলাকার ৪৩ জন ভিক্ষুক।

অনেক দিন থেকেই কোটালীপাড়া উপজেলার কুশলা ইউনিয়নের চৌরখুলী গ্রামের এসব মানুষের পেশা ভিক্ষাবৃত্তি। প্রশাসন এই পথ থেকে তাঁদের ফিরিয়ে আনার অনেক চেষ্টাই আগে করেছে। কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হয়নি, কদিন পর আবার আগের পেশায় ফিরে গেছেন। তখন থেকেই তাঁদের জন্য স্থায়ী কিছু, বিকল্প কিছু করার চিন্তা করছিল উপজেলা প্রশাসন। বেশি জটিল কাজ করার মতো শিক্ষাগত বা কারিগরি দক্ষতা এসব মানুষের অধিকাংশেরই নেই। এসব নানা চিন্তাভাবনা থেকেই প্যাকেট তৈরির কারখানাকেই মনে হয়েছে জুতসই।

কারণ, স্থানীয় বাজারেই পণ্যটির চাহিদা রয়েছে। মুদিদোকান থেকে শুরু করে ফলপট্টি—সবখানেই পণ্য বিক্রি করতে হলে প্যাকেট লাগবে।
এত দিন জেলার বাইরে থেকে আসত এই পণ্য। তাই এই প্যাকেট তৈরির কারখানা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় প্রশাসন। কাজটা করতে লেখাপড়া লাগে না, প্রশিক্ষণও সহজেই দেওয়া যায়। এ জন্য ২০ বছরের জন্য ৩৫ শতাংশ জায়গা ইজারা নিয়েছে তারা।

বিজ্ঞাপন

ভিক্ষুক পুনর্বাসন তহবিল থেকে টাকাটা নেওয়া হয়েছে। ডিসেম্বরেই শুরু হয় কারখানা তৈরির কাজ। গত মাসের শুরুতে শেষ হয় কাজ। তারা কারখানাটির নাম দিয়েছে ‘অবলম্বন’। সব গোছগাছ করে ভিক্ষুকদের এখানে কাজ করার প্রস্তাব করে। ৪৩ জন রাজি হন। ২০ থেকে ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত তাঁদের প্যাকেট তৈরির প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। আর ১ মে তাঁদের হাতে নিয়োগপত্র তুলে দেওয়া হয়েছে। ওই দিনই কাজে যোগ দেন তাঁরা। তাঁদের মাসিক বেতন হবে তিন হাজার টাকা করে। এ ছাড়া লাভের ২০ শতাংশ পাবেন তাঁরা। কাজ জোগাড় করে দেবে প্রশাসন, আর সবকিছু দেখভাল করবেন উপজেলা প্রশাসন ও
সমাজসেবা কর্মকর্তা।

শুধু কোটালীপাড়া নয়, ভিক্ষাবৃত্তি সারা দেশেরই একটি বড় সমস্যা। চৌরখুলী মডেল সফল হলে সারা দেশেই ছড়িয়ে দেওয়া যেতে পারে।

সম্পাদকীয় থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন