সরকারের সমাজসেবা বিভাগের যত কর্মসূচি আছে, তার মধ্যে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর পেশা ও জীবিকা রক্ষায় সহায়তা অন্যতম। বিশেষ করে তাঁতি, জেলে, কুমার, কামার, চর্মকার, নরসুন্দরেরা যাতে আদি পেশায় থাকতে পারেন, সে জন্য সরকার সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় সহায়তা দিয়ে থাকে। জেলেদের জাল ও নৌকা কেনা, তাঁতিদের তাঁত কেনার জন্য নগদ অর্থ দেওয়া হয়। একইভাবে গ্রামগঞ্জের নরসুন্দরদের ঘর তৈরি ও প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম কেনার জন্য আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়।

কিন্তু দুর্ভাগ্যজনক হলো, সঠিক তালিকার অভাবে সমাজসেবা বিভাগের এ সহায়তা সঠিক লোকের কাছে পৌঁছায় না। এক পেশার মানুষ অন্য পেশার সহায়তা নিয়ে যান। প্রথম আলোর ভৈরব প্রতিনিধির খবরে বলা হয়, কিশোরগঞ্জের ভৈরব উপজেলার সমাজসেবা কার্যালয় ৩০০ নরসুন্দরের তালিকা করেছে আর্থিক সহায়তা দেওয়ার জন্য। প্রত্যেক নরসুন্দরের জন্য বরাদ্দ ছিল ১৮ হাজার টাকা। অনুসন্ধানে দেখা যাচ্ছে, যাঁরা এ পেশায় আছেন, তাঁদের অনেকে সহায়তা পাননি। আবার যাঁরা এ পেশায় নেই, তাঁদেরও কেউ কেউ সহায়তা পেয়েছেন। একই পরিবারের একাধিক লোক সহায়তা নিয়েছেন বলেও অভিযোগ আছে।

বিজ্ঞাপন

সমাজসেবা কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্র জানায়, বাংলাদেশ প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়ন শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় প্রান্তিক পর্যায়ের মানুষ যাতে নিজ নিজ পেশায় থাকতে পারেন, সে জন্য এ সহায়তা দেওয়া হয়। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সহায়তায় স্থানীয় সমাজসেবা কর্মকর্তার কার্যালয় কর্মসূচি বাস্তবায়ন করে। চলতি বছর ভৈরবে এ প্রকল্পের অধীন ৩০০ নরসুন্দরকে বাছাই করা হয়েছিল। তালিকা করার জন্য ছয় সদস্যের কমিটির সভাপতি ছিলেন সংশ্লিষ্ট ইউনিয়নের চেয়ারম্যান এবং সদস্যসচিব ইউনিয়ন সমাজসেবা কর্মী। সদস্য চারজন ইউপি সদস্য। গত জানুয়ারিতে কমিটি করা হয়। অথচ তাঁরা তালিকা চূড়ান্ত করেছেন মাত্র এক মাস আগে।

তালিকা প্রণয়নে অনিয়মের জন্য সমাজসেবা কার্যালয় স্থানীয় জনপ্রতিনিধি এবং স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা সমাজসেবা কার্যালয়ের ওপর দোষ চাপাচ্ছেন। এটি কোনোভাবে গ্রহণযোগ্য নয়। তালিকা প্রণয়নে কোনো অনিয়ম হলে দায় উভয় পক্ষকে নিতে হবে। কারও দায় এড়ানোর সুযোগ নেই। সঠিক তালিকা হলে ওই উপজেলায় কোনো নরসুন্দরের বাদ পড়ার কথা নয়। কিন্তু অন্য পেশার লোকের পাশাপাশি একই পরিবারের একাধিক সদস্যকে তালিকাভুক্ত করার কারণে অনেকে বাদ পড়েছেন।

অবিলম্বে তালিকা সংশোধন করে ভৈরবের সব নরসুন্দর যাতে সমাজসেবা বিভাগের আর্থিক সহায়তা পান, সেই ব্যবস্থা করুন।

মন্তব্য পড়ুন 0