default-image

প্রায় এক বছর ধরে কোভিড–১৯ মহামারি জাতীয় অর্থনীতিতে আঘাত হেনে চলেছে। বিপুলসংখ্যক মানুষ কর্মসংস্থান হারিয়েছেন। যাঁরা এ দুর্ভাগ্য এড়াতে পেরেছেন, তাঁদের আয় কমে গেছে। অনানুষ্ঠানিক খাতের কত মানুষ কতভাবে আর্থিক চাপ ও দুর্দশায় পড়েছেন, তা বলা কঠিন। তবে এ বিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই যে সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের দৈনন্দিন জীবনে নানা মাত্রায় আর্থিক চাপ অনুভূত হচ্ছে।

এ পরিস্থিতিতে প্রধান খাদ্য চালের দাম গত বছরের এ সময়ের তুলনায় প্রায় ৪৮ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে। বিশেষভাবে উল্লেখ্য যে ভাত বাংলাদেশের বিপুলসংখ্যক মানুষের জন্য শুধু শর্করার উৎস নয়, তাদের আমিষের চাহিদারও একটি বড় অংশ পূরণ হয় ভাত থেকে। সুতরাং চালের দাম সামান্য বাড়লেই তাদের জন্য পুষ্টিঝুঁকিতে পড়ার আশঙ্কা দেখা দেয়। সেই আশঙ্কা ইতিমধ্যে দেখা দিয়েছে। চালের আমদানি শুল্ক কমানোর প্রভাব এখনো উল্লেখ করার তো নয়। শুধু পাইকারি পর্যায়ে কেজিপ্রতি দাম দুই টাকা পর্যন্ত কমেছে। কিন্তু তাতে চালের ভোক্তাপর্যায়ে কোনো সুবিধা হয়নি, কারণ খুচরা বাজারে এখনো চালের দাম কমেনি।

বিজ্ঞাপন

উপরন্তু, ভোজ্যতেলের বাজার চড়েছে। গত অক্টোবর থেকে এ পর্যন্ত বোতলজাত ভোজ্যতলের দাম লিটারপ্রতি ২২ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে এবং সম্প্রতি ১২৫ থেকে ১৩০ টাকায় স্থিতিশীল হয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে। আর গতকালের প্রথম আলোর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভোজ্যতেলের পর চিনির দামও বাড়তে শুরু করেছে এবং ইতিমধ্যে কেজিতে ৪–৫ টাকা বেড়েছে। খোলাবাজারে এখন প্রতি কেজি চিনি ৬৬ থেকে ৬৮ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

আমাদের দেশে পাঁচ–ছয়টি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান অপরিশোধিত ভোজ্যতেল ও চিনি আমদানি করে পরিশোধন করে বাজারজাত করে। তারা এখন বলছে, ভোজ্যতেল ও চিনির দাম বাড়াতে তারা বাধ্য হয়েছে, কারণ আন্তর্জাতিক বাজারে এ দুটি ভোগ্যপণ্যের দাম বেড়েছে। তবে বিদেশে দাম কতটা বাড়লে বাংলাদেশে কতটা বাড়বে, তার নিশ্চয়তা নেই। তা ছাড়া আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বেড়েছে বা বাড়ছে, এমন খবর প্রচারিত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই এ দেশেও দাম বেড়ে যায়। এমনও হয় যে আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বাড়ার আগে যেসব পণ্য আমদানি করা হয়েছে, সেগুলোর দামও বাড়ানো হয়। কিন্তু এর কোনো যুক্তি নেই, বরং এটা অন্যায়। কিন্তু এটা নিয়ন্ত্রণের কোনো ব্যবস্থা এ দেশে নেই। আসলে প্রয়োজন বাজারে কঠোর নজরদারি।

অবশ্য আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বেড়ে গেলে আমাদের দেশেও আমদানি পণ্যের দাম বাড়া স্বাভাবিক। ভোজ্যতেল ও চিনির ক্ষেত্রে তা কী মাত্রায় ঘটেছে এবং তার প্রভাবে আমাদের বাজারে দাম বাড়া সামঞ্জস্যপূর্ণ কি না, তা সরকারের খতিয়ে দেখে বাজারের স্বাভাবিক সামঞ্জস্য রক্ষার পদক্ষেপ নেওয়া উচিত। আর যেহেতু কোভিড–১৯ মহামারির কারণে সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের জীবনযাপনে আর্থিক চাপ সৃষ্টি হয়েছে, সেহেতু সেই চাপ যাতে আর না বাড়ে বরং ইতিমধ্যে বেড়ে যাওয়া চাপ কিছুটা হলেও লাঘব করার উপায় খোঁজা উচিত। আমদানিকৃত ভোজ্যতেল ও চিনির ওপর কয়েক স্তরের ভ্যাটসহ মোট করভার এখন বেশি। কোভিড পরিস্থিতি বিবেচনায় রেখে সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের জীবনযাত্রার চাপ লাঘবের জন্য বিদ্যমান মোট করভার কিছু সময়ের জন্য পুনর্বিবেচনা করা যেতে পারে। এর পাশাপাশি অবশ্যই বাজারে নিময়িত নজরদারি নিশ্চিত করা প্রয়োজন, যেন অন্যায্যভাবে কোনো ভোগ্যপণ্যের দাম বাড়ানো না হয়।

বিজ্ঞাপন
সম্পাদকীয় থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন