default-image

যেসব অঞ্চলে আগাম রবিশস্য চাষ হয়, তার মধ্যে ভোলা উল্লেখযোগ্য। চরাঞ্চলেই রবিশস্যের চাষ বেশি হয়ে থাকে। ভোলার মেঘনা ও তেঁতুলিয়া নদীর ওপর ৭০টির বেশি চর আছে। চরের অনেক জায়গা আছে, যেখানে কেবল রবিশস্যই চাষ হয়। এ কারণে স্থানীয় কৃষকেরা সারা বছর এই মৌসুমের দিকে তাকিয়ে থাকেন।

আম্পান ও বন্যায় ধানের উৎপাদন কম হওয়ায় কৃষকেরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। এ কারণে তাঁরা অধিক জমিতে রবিশস্য চাষ করে ক্ষতিটা পুষিয়ে নিতে চাইছেন। কিন্তু ভোলার কৃষকেরা প্রথমেই ধাক্কা খেয়েছেন সারের দাম বেড়ে যাওয়ায়। সরকার সারের দাম না বাড়ালেও একশ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ী তথা ডিলার কৃষকদের কাছ থেকে বেশি দাম নিচ্ছেন। প্রতি বস্তা ২০০ থেকে ৫০০ টাকা দিতে বেশি দিতে হচ্ছে। প্রথম আলোর ভোলা প্রতিনিধি বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখেছেন, কৃষকদের কাছ থেকে টিএপি, ডিএপি, ইউরিয়াসহ বিভিন্ন সারের দাম বেশি নেওয়া হচ্ছে। অথচ ডিলাররা তাঁদের কোনো পাকা রসিদ (ভাউচার) দিচ্ছেন না। রসিদ না দেওয়ায় কৃষকেরা সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থাও নিতে পারছেন না।

বিজ্ঞাপন

ভোলা জেলায় সারের ডিলার আছেন ৭২ জন। সদর উপজেলায় আছেন ১৪ জন ডিলার। ভোলা সদর ও ইউনিয়ন পর্যায়ের বাজার ঘুরে প্রথম আলো প্রতিনিধি দেখতে পেয়েছেন, ডিলারের দোকানে প্রতি বস্তা (৫০ কেজি) ইউরিয়া সার বিক্রি হচ্ছে ৮১০ থেকে ৯৫০ টাকা, ট্রিপল সুপার ফসফেট (টিএসপি) ১ হাজার ১৫০ থেকে ১ হাজার ৩৫০, ডাই অ্যামোনিয়াম ফসফেট (ডিএপি) ১ হাজার ১৫০ ও মিউরেট অব পটাশ (এমওপি) ৭৫০ থেকে ৮০০ টাকায়।

কৃষির উৎপাদন খরচ কমানোর জন্য সরকার ডিএপি সারের দাম কেজিপ্রতি ১৬ টাকা নির্ধারণ করেছে। কিন্তু ডিলাররা সেই সার বিক্রি করছেন ৪০ টাকায়। অথচ পাশের জেলা নোয়াখালীতে সরকার নির্ধারিত দামেই সার বিক্রি হচ্ছে। ভোলার জেলা কৃষি বিভাগের দাবি, জেলায়
সারের কোনো ঘাটতি নেই। গুদামে পর্যাপ্ত সার আছে। যাঁদের সারের বাজার মনিটর করার কথা, তঁারা সমস্যাটি এড়িয়ে যাচ্ছেন। সার, বীজ মনিটরিং কমিটির সভাপতি ও ভোলা জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মাসুদ আলম ছিদ্দিক বলেন, ‘বেশি দামে সার বিক্রি করার প্রশ্নই আসে না। যদি এ রকম হয়, তাহলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ কৃষকেরা বলছেন, তাঁরা বেশি দামে সার কিনছেন। জেলা প্রশাসন কেন ডিলারদের রসিদ দিতে বাধ্য করছে না?

অবিলম্বে অসাধু ডিলারদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিন এবং কৃষকেরা যাতে সরকার নির্ধারিত দামে সার পান, সেই ব্যবস্থা করুন।

মন্তব্য পড়ুন 0