বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

মারিয়া রেসা ফিলিপাইনের চরম কর্তৃত্ববাদী শাসনের বিরোধিতা করেছেন, মাদকবিরোধী অভিযানের নামে দেশটিতে বিচারবহির্ভূত হত্যার বিরুদ্ধে সোচ্চার আছেন, বিরোধীদের হেনস্তা করতে সরকার যে ভুয়া প্রচারণা চালিয়েছে, তা-ও তাঁর নিউজ পোর্টাল র‌্যাপলার তুলে ধরছে। রাশিয়ার সাংবাদিক দিমিত্রি মুরাতভ তাঁর নভোয়া গাজিয়েতায় পুলিশের সহিংসতা, বেআইনি গ্রেপ্তার, নির্বাচনী জালিয়াতি ও জনগণকে ভয় দেখাতে সেনাবাহিনীকে ব্যবহারের বিরুদ্ধে বলিষ্ঠ ভূমিকা রেখেছেন। এ পত্রিকার ছয়জন সাংবাদিক খুন হয়েছেন।

পুরস্কার ঘোষণাকালে কমিটির চেয়ারম্যান বেরিট বেইস অ্যান্ডারসন যথার্থই বলেছেন, যে বিশ্বে গণতন্ত্র ও সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা ক্রমবর্ধমান প্রতিকূলতার সম্মুখীন, সেই বিশ্বে এই দুই সাংবাদিক তাঁদেরই প্রতিনিধিত্ব করছেন, যাঁরা একই আদর্শের পক্ষে লড়ছেন। মতপ্রকাশের স্বাধীনতা গণতন্ত্র ও টেকসই শান্তির অন্যতম শর্ত।

এই স্বীকৃতি কেবল এই দুই লড়াকু সাংবাদিকের কাজের স্বীকৃতি নয়, দেশে দেশে যেসব সাংবাদিক কর্তৃত্ববাদী ও স্বৈরতান্ত্রিক শাসনের বিরুদ্ধে লড়াই করেছেন, যাঁরা জেল-জুলুমের শিকার হচ্ছেন, তাঁদের জন্য নিত্য প্রেরণাও বটে। বিশ্বায়ন ও আধুনিক প্রযুক্তির যুগে অবাধ তথ্যপ্রবাহের সুযোগ যেমন বেড়েছে, তেমনি বেড়েছে সৎ ও সাহসী সাংবাদিকতার চ্যালেঞ্জ। এ চ্যালেঞ্জ এসেছে দুদিক থেকে। প্রথমত, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পাওয়া অসংখ্য তথ্যের মধ্যে সত্যাসত্য নিরূপণ করা সহজ নয়। দ্বিতীয় ও সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো কর্তৃত্ববাদী শাসন।

কোনো দেশের শাসনব্যবস্থা কতটা গণতান্ত্রিক, তা অনেকাংশে নির্ভর করে সেই দেশে চতুর্থ স্তম্ভ হিসেবে পরিচিত সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা থাকা না থাকার ওপর। সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা ছাড়া কোনো দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হতে পারে না। এই প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতার প্রশ্নটি বিচার করা জরুরি বলে মনে করি। সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতার সূচকে আমাদের অবস্থান ১৮০টি দেশের মধ্যে ১৫২তম এবং দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে সবার নিচে। আরও অনেক আইনের সঙ্গে ২০১৮ সালে প্রণীত ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনটি সাংবাদিকদের মুখ বন্ধ করে দিতে মোক্ষম অস্ত্র হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে।

অস্বীকার করার উপায় নেই, বিশ্বের অনেক দেশের মতো বাংলাদেশের সাংবাদিকেরাও নানা প্রতিকূলতা অতিক্রম করে পেশাগত দায়িত্ব পালন করে আসছেন। সাহসী সাংবাদিকতার জন্য রাশিয়ার দিমিত্রি মুরাতভ ও ফিলিপাইনের মারিয়া রেসার শান্তিতে নোবেল পুরস্কারপ্রাপ্তিতে বাংলাদেশের সহযাত্রীরাও আনন্দিত। শত বাধাবিঘ্ন ও দমন-পীড়ন অগ্রাহ্য করে স্বাধীন সাংবাদিকতায় তাঁরা যে অনন্য দৃষ্টান্ত রেখে গেছেন, তা ধারণ করেই আমাদের এগিয়ে যেতে হবে ভয় হতে অভয়ের পথে।

মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন