বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

এখন প্রশ্ন হচ্ছে, মন্ত্রী সরকারের অংশ, তাঁর ‘চিল্লাচিল্লি’ যদি এসব কর্তৃপক্ষ না শোনে, তাঁর চিঠির কোনো দাম যদি তাঁদের কাছে না থাকে, তবে সাংবাদিকদের প্রশ্ন কোনো ফয়দা দেবে কি?

করোনার কারণে প্রবাসী শ্রমিকের অনেকেই ফিরে আসতে বাধ্য হয়েছিলেন, কেউ ফিরে এসে আটকা পড়েছেন, নতুন যঁারা যেতে আগ্রহী ছিলেন তাঁদের যাওয়া বাধাগ্রস্ত হয়েছে। যখন তাঁরা আবার দেশের বাইরে তাঁদের কর্মস্থলে যাওয়ার চেষ্টা করছেন, তখন তাঁদের কাছ থেকে নেওয়া হচ্ছে প্রায় দ্বিগুণ ভাড়া। এয়ারলাইনসগুলো চাইলেই কি তাঁদের খেয়ালখুশিমতো ভাড়া নির্ধারণ করতে পারে? এখানে কি কোনো রেগুলেশনের ব্যবস্থা থাকবে না?

বাংলাদেশের প্রবাসী শ্রমিকদের মূল গন্তব্য মধ্যপ্রাচ্য। শ্রমিকদের চাপ থাকলে বাংলাদেশ বিমানসহ মধ্যপ্রাচ্যের এয়ারলাইনসগুলোর ফ্লাইট বৃদ্ধি, অতিরিক্ত স্লট বরাদ্দ, শ্রমিকদের জন্য বিশেষ ভাড়ার ঘোষণাসহ নানা প্রস্তাবের কথা আলোচিত হয়েছে। কিন্তু এসব নিয়ে কার্যকর কিছু হচ্ছে না। এখন প্রবাসীকল্যাণমন্ত্রী যদি বলেন যে তঁার চিল্লাচিল্লি ও চিঠিতে কোনো কাজ হচ্ছে না, তাহলে বুঝতে হবে সরকারের বিভিন্ন বিভাগ ও সংস্থার কাজের মধ্যে কোনো সমন্বয় নেই। যে যার মতো চলছে এবং কেউ কারও কথা শুনছে না।

প্রবাসী শ্রমিকদের ওপর বাড়তি বিমানভাড়া চেপে বসার পাশাপাশি চরম দুর্ভোগ হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে বিমানবন্দরের অব্যবস্থাপনা। পত্রপত্রিকা ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রতিদিন বিমানবন্দরে যাত্রীদের ভোগান্তির যে খবর আসছে, তাতে এটা মনে হওয়ার যথেষ্ট কারণ রয়েছে যে হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ব্যবস্থাপনা কার্যত ভেঙে পড়েছে। সংস্কারকাজের জন্য ফ্লাইট চলাচল রাতে আট ঘণ্টা বন্ধ থাকায় দিনে ফ্লাইটের চাপ বেড়েছে এবং এটা বাস্তবতা। কিন্তু বিমানবন্দরে কোনো যাত্রী আধঘণ্টা ঘুরেও কেন কোনো ফাঁকা ট্রলি পাবেন না? প্রয়োজনীয় ট্রলি বিমানবন্দরে থাকবে না কেন? যাত্রীদের জন্য নির্দেশনা থাকবে না কেন? অথবা ওয়েটিং রুমের এসি কেন চলবে না? এর কী জবাব আছে বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের। এগুলো সবই ব্যবস্থাপনাগত সমস্যা।

বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ ও বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক) সবাইকে আশ্বস্ত করেছিল যে রাতে আট ঘণ্টা ফ্লাইট বন্ধ ও ফ্লাইটসূচি পুনর্বিন্যাস করা হলেও বিমানবন্দর যাতে স্বাভাবিকভাবে চলে, সেই প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। বোঝা যায় সেই প্রতিশ্রুতি ছিল নিছক কথার কথা। প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী তারা যে কাজটি করতে ব্যর্থ হয়েছে এবং হচ্ছে এবং এ জন্য প্রতিদিন হাজার হাজার যাত্রী ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। একটি জবাবদিহিহীন পরিস্থিতিতে যা হওয়ার তাই হচ্ছে। প্রবাসীকল্যাণমন্ত্রীর বক্তব্যে সেই অসহায় পরিস্থিতিই ফুটে উঠছে। মন্ত্রী যখন অসহায়, তখন প্রবাসী শ্রমিকদের ভোগান্তি দূর করবে কে?

মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন