বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

কিশোরগঞ্জ হচ্ছে মিঠাপানির মাছের অন্যতম আধার। সেখানে বিস্তীর্ণ হাওর এলাকা ছাড়াও ভৈরবে মেঘনা নদীতে বিপুল পরিমাণ মাছ আহরণ করা হয়। বাংলাদেশে নিযুক্ত ব্রুনেইয়ের হাইকমিশনার হারিস বিন ওসমান গত শনিবার ভৈরবে ঘুরতে যান। তিনি ওই অঞ্চলে মাছ উৎপাদনের উন্নতি ও অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ করেন। সকালে মেঘনা নদীর ভৈরব মোহনা, সরাইল মোহনা ও আশুগঞ্জ মোহনার প্রায় ১০ কিলোমিটার এলাকা ঘুরে বেড়ান। বিকেলে ভৈরব নৈশ মৎস্য আড়ত ঘুরেও দেখেন। সে সময় তিনি বলেন, ‘আমরা ব্রুনেইয়ে মাছ উৎপাদনকে আরও উন্নত ও গতিশীল করতে চাই। এ অঞ্চলে মাছ উৎপাদনে যাঁরা দক্ষ আছেন, তাঁদের আমরা ব্রুনেইয়ে নিয়ে যেতে চাই। দুই দেশের চুক্তি অনুযায়ী সেটা করা হবে।’

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০১৮ সালে ব্রুনেইয়ে সফর করেন। সে সময় ব্রুনেইয়ের সুলতান হাসসান আল-বলকিয়াহর উপস্থিতিতে দুই দেশের মধ্যে পাঁচটি বিষয়ে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়। এর একটি হচ্ছে মিঠাপানির মৎস্য আহরণ ও এ ক্ষেত্রে ব্রুনেই কীভাবে প্রযুক্তিগত সহায়তা দিতে-নিতে পারে এ-সংক্রান্ত। চুক্তি বাস্তবায়নের ধারাবাহিকতায় সরেজমিনে এ এলাকা পরিদর্শন করেন ব্রুনেই হাইকমিশনার। নদী, পুকুর ও জলাশয়ে মাছ চাষের ক্ষেত্রে সাফল্য ও অভিজ্ঞতা অন্যান্য অনেক দেশের সঙ্গে সহজে আদান-প্রদান করা যায়। এ ক্ষেত্রে ব্রুনেইর আগ্রহ অবশ্যই আশাব্যঞ্জক। যদিও এ ব্যাপারে দুই দেশের মধ্যে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে তিন বছর আগে।

সমঝোতা স্মারক যদি ‘স্মারক’ হিসেবেই থেকে যায় এবং একে যদি এগিয়ে নেওয়া না যায়, তবে তা অর্থহীন। আমরা আশা করব সরকার এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেবে। এমনিতে দক্ষ জনশক্তি প্রেরণে আমরা অনেক পিছিয়ে আছি। সে ক্ষেত্রে মৎস্য চাষে দক্ষ ব্যক্তিদের আমরা আগ্রহী দেশগুলোতে পাঠাতে পারি। করোনাকালে জনশক্তির যে বাজার সংকুচিত হয়ে আসে, সেটি প্রসারিত করতে এটি সহায়তাও করবে।

সম্পাদকীয় থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন